মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১



বিএনপিতে গণতন্ত্রহীনতা নিয়ে সরব দলীয় বুদ্ধিজীবীরা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.09.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির নেতারা প্রায় দিনই সভা-সমাবেশে দেশে গণতন্ত্র নেই বলে দাবি করে। সরকারকে সকাল-বিকাল এজন্য দোষারোপ করলেও এবার বিএনপির গনতন্ত্রহীনতা নিয়ে সরব হয়েছেন দলটির সমর্থক কিছু বুদ্ধিজীবী। তারা বলছেন, বিএনপির ভেতরেই গণতন্ত্রের অভাব আছে। আগে নিজের ঘর সামলানো দরকার বিএনপির। নয়ত শুধু শুধু সরকারকে দোষারোপ করলে বিএনপির কোন উপকার হবে না।

জানা গেছে, বিএনপির গঠিত হয়েছ সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানের হাতে। দেশের সংবিধান অমান্য করে সামরিক উর্দি পরিহিত অবস্থায় সরকারপ্রধান হন জিয়াউর রহমান। এরপর জোর করে বিভিন্ন দল থেকে নেতা ভাগিয়ে এনে, অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং ব্যবসায়ীদের দিয়ে বিএনপি গঠন করেন। তখন থেকেই দলটির সমালোচনা ছিল এটি এক ব্যক্তির কথায় পরিচালিত হয়। বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই। পরে খালেদা জিয়ার আমলেও একই অবস্থা দেখা গেছে। মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ালেও আড়ালে সকল সিদ্ধান্ত নিতেন খালেদা জিয়া। ফলে দলের নেতাদের আসলে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। এখন বিএনপির সকল দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি স্বৈরাচারী। সে কারও কথাই শোনে না। নিজেই সব সিদ্ধান্ত দেয়, তা ঠিক হোক আর বেঠিক হোক সবাইকে মানতে হয়। না মানলে শাস্তি পেতে হয়।

সূত্র জানায়, বিএনপির ভেতরের এই অবস্থা সম্পর্কে দলটির সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের জানা। এতদিন চুপ থাকলেও এখন তারা ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। গত কয়েক মাসে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বিভিন্ন সময় বিএনপির ভেতরে গণতন্ত্রহীনতা নিয়ে কথা বলেছেন। এ নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনি সারা দিন সরকারে সমালোচনা করে এসে যদি নিজের ঘরেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন তাহলে জনগণ আপনার কথা শুনবে না। খালেদা জিয়ার আমলে তাও সিনিয়র নেতাদের কথার একটা গুরুত্ব ছিল। এখন তো শুনি লন্ডন থেকে যে ওহী আসে তা নিয়ে কেউ একটা কথাও বলার সাহস পায় না। তাহলে তারেক রহমান ভুল সিদ্ধান্ত দিলেও যদি সেটা নিয়ে নেতারা কথা বলতে না পারে, বিএনপির ভুল সংশোধন হবে কিভাবে? আমার কথা হল, শুধু সরকারকে দোষারোপ করে গেলে তো হবে না, নিজের ঘরও ঠিক করতে হবে। নয়ত আগামীতেও বিএনপির জন্য ভালো কিছু দেখি না আমি।

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, বিএনপি একটা বড় দল। এখান বিভিন্ন মত আছে। আগে খালেদা জিয়ার আমলে সেই মতগুলোকে কিছুটা হিসেব করা হত। সব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হত না। দলে ভুল-ত্রুটি সংশোধনের একটা সুযোগ থাকত। কিন্তু এখন শুনি বিএনপির নেতাদের কথা শোনা হয় না। সিনিয়র নেতাদের সাথে পরামর্শ না করেই অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো তো ভালো কিছু নয়। আমরা সরকারের সমালোচনা করি, কিন্তু যদি নিজের ঘরের মধ্যে এসব সমস্যা থাকে তাহলে কোনভাবেই দল এগোতে পারবে না। দল গণতান্ত্রিকভাবে না চললে আন্দোলনে জনগণ যুক্ত হবে না। ফলে দেশে গণতন্ত্র নেই বলে গলা ফাটিয়ে লাভ হবে না, আগে নিজের দলে গণতন্ত্রের চর্চা শুধু করতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি