মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১



বৈঠকে তোলপাড় : জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে রাজি নন খালেদা-তারেক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.09.2021

নিউজ ডেস্ক : যুদ্ধাপরাধ ও ধর্মের আড়ালে সহিংসতার বিস্তারের অভিযোগে জনগণ ও রাজনীতিতে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জামায়াতকে প্রশ্রয় দেয়ায় শুরু থেকেই দুয়ো শুনতে হয়েছে বিএনপিকে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ও আর্থিক সহায়তা পেতে জেনেশুনে জামায়াতের পাপের ভাগীদার হয় বিএনপি।

বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের মুখে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার দাবি উঠলেও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে রাজি নন বেগম জিয়া ও তারেক রহমান। ৮ সেপ্টেম্বর দলীয় বৈঠকে আবারও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তারেক।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়ালে বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত হয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতের সঙ্গত্যাগে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে নিজ নিজ বাসা থেকে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৈঠক সূত্র বলছে, ভার্চুয়াল আলোচনায় জামায়াতকে ২০ দলীয় জোট থেকে বের করে দিতে একমত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিএনপির সুনাম রক্ষায় ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্যরা। শুধুমাত্র একজন সদস্যের বক্তব্যে অস্পষ্টতা ছিল। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক জামায়াতের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে চলে নানা আলোচনা।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিএনপির কলঙ্কের ভাগীদার হতে আর রাজি নন বলে তারেককে জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে রাজনীতিতে বিএনপিকে চাঙ্গা করতে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গত্যাগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দেশের জনগণ আর অশিক্ষিত ও মূর্খ নয়, তাই জামায়াতের মতো ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী দলকে সাথে নিয়ে চলাকে বোকামি মনে করছেন গয়েশ্বর।

এছাড়া জমির উদ্দিন সরকার জামায়াতের মতো ধর্মভিত্তিক দলকে ছেড়ে বরং বাম ঘরানার দলগুলোকে ২০ দলীয় জোটে ভেড়াতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। ২১ শতকে বসবাস করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের ভরসায় রাজনীতি করাটাকে জমির উদ্দিনও বোকামি বলে অভিহিত করেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বক্তব্য শোনার পর বেগম জিয়ার সাথে আলোচনা করে জামায়াতের বিষয়ে পরবর্তীতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন তারেক। জামায়াতকে ছেড়ে দেয়ার পূর্বে রাজনীতির লাভ-লসের হিসাব কষতে চান তারেক। যার কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে সময়ে চেয়েছেন বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি