বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আজ, চূড়ান্ত হবে নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা



আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আজ, চূড়ান্ত হবে নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.09.2021

প্রায় এক বছর পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বসছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। করোনা মহামারির কারণে সীমিত পরিসরে আয়োজিত সভায় দলটির অর্ধশত কেন্দ্রীয় নেতা অংশ নেবেন।

সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দলের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা ও তা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। সভায় বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলাওয়ারী সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা চাইবেন।

এ ছাড়া সভা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির সম্মেলনসহ তৃণমূল পর্যন্ত দলকে গোছানো ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে দিকনির্দেশনা আসবে। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট-মহাজোটের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি মাঠে নামতে চাইলে তা মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের কর্মসূচি কী হবে, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে সভায়। নোয়াখালীসহ ‘বেশি জটিল’ জেলা-উপজেলা বা মহানগরের বিষয়ে দলীয়কে সভাপতির নির্দেশনা চাইবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

জানতে চাইলে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, সভায় দলের সাংগঠনিক কাজের গতি বৃদ্ধি ও দলকে শক্তিশালী করার বিষয়ে নেত্রী (সভাপতি শেখ হাসিনা) দিকনির্দেশনা দেবেন। আমাদের জেলা-উপজেলার যেখানে যেখানে সম্মেলন হয়নি সেগুলো করা, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলে সেগুলো কীভাবে নিরসন করা তা নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি সভায় সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়েও আলোচনা হবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কিছু রুটিন বিষয় আছে সেগুলো থাকবে। জমে থাকা অনেক বিষয় আছে, সেগুলোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। কিছু জটিলতা আছে, সেগুলো কীভাবে নিরসন করা করা যায়-তা নিয়েও আলোচনা হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।

তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। ১৪ দলীয় জোট-মহাজোট নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সামনে অনেকগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া সামনের বিভিন্ন দিবসভিত্তিক কর্মসূচিগুলো কীভাবে পালন করা হবে, করোনা পরিস্থিতিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, সমসাময়িক রাজনীতি, বিশ্ব রাজনীতিও আলোচনায় আসবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই গতানুগতিকতার বাইরেও অনেক বিষয় আলোচনা আসবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করতে গিয়ে যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন, তাও দলীয় সভাপতিতে অবহিত করবেন। এ ছাড়া আগামী দিনে কাজের খসড়া প্রস্তাবও তৈরি করেছেন তারা। সভায় সেগুলো উপস্থাপন করে দলীয় সভাপতির অনুমতি ও দিকনির্দেশনা চাইবেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, আমরা সাংগঠনিক রিপোর্ট তৈরি করেছি। সভায় সেগুলো উপস্থাপন করবো। এই সভায় নেত্রী (শেখ হাসিনা) যেভাবে দিকনির্দেশনা দেবেন, আগামীতে সেভাবেই সাংগঠনিক কাজকে আরও গতিশালী করব।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, অনেক দিন পরে সভা হচ্ছে, ফলে অনেক এজেন্ডা থাকছে। দলের অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয় আছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) ১৫-২০ দিনের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন। ফলে সার্বিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। আমরা জেলাওয়ারী রিপোর্ট তৈরি করেছি, সেগুলো জমা দেব।

করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রায় ৮ মাসের বিরতি দিয়ে গত বছরের ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা হয়েছিল। ওই সভায় ৩৩ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেবার যারা উপস্থিত ছিলেন প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসার পরই সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন।

এক বছর পর অনুষ্ঠিতব্য আজকের সভায় ৫০ জনের মতো থাকবেন। এদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ১০ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনজন, সব সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ১২ জন ও কার্যনির্বাহী সদস্য ১০ জন থাকবেন। আমন্ত্রিত প্রত্যেকের ইতোমধ্যে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যারা নেগেটিভ হবেন তারাই সভায় যোগ দেবেন।

গত বছর আওয়ামী লীগের গঠিত বিভাগীয় টিম তাদের কার্যক্রম শুরু করলেও করোনার কারণে মাঝে তা আবারও স্থবির হয়ে পড়ে। সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ কমে আসায় আবারও দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, জেলা আওয়ামী লীগের তিন গ্রুপে নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা সংঘর্ষের পর এখনও উত্তাপ বিরাজ করছে এখানে। সব কর্মসূচি স্থগিত করে তিন গ্রুপের নেতারাই চেয়ে আছেন আজকের সভার দিকে। সম্প্রতি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে দলে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এরপর থেকেই নোয়াখালী জেলার আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকেই ধারণা করছেন, দু’-একজন হেভিওয়েট নেতার কমিটি থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর বাদ পড়ে যাওয়ার বিষয়টি পুরো জেলায় চাউর হয়ে আছে। আর কে দল থেকে বা কমিটি থেকে ছিটকে পড়ছেন, সে বিষয়ে জেলা পর্যায়ের নেতাদের কেউই মুখ খুলছেন না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি