বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১



জিয়াউর রহমান : সাবলীল নগরীর নারকীয় নেতা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.09.2021

নিউজ ডেস্ক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা পরবর্তী ৬ বছর ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। অস্থির সময়ের সুযোগ নিয়ে স্বৈরশাসক জিয়া নিজেকে শাসক ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। ঘোর অমানিশার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমল। জিয়ার শাসনামলকে কেবল বাঙালির ইতিহাসের লজ্জা ও কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবেই অভিহিত করা যায়।

তথ্যসূত্র বলছে, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতির সুযোগ দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছেন। সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তার সময়। যার কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ছিল প্রচণ্ড ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যু ঘটে জিয়ার। জিয়ার অপকর্মই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী, বিষয়টিকে অনুধাবন করে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তানরা কোনদিন জিয়া হত্যার বিচার চাননি। স্বাধীনতা সংগ্রামেও জিয়ার অদক্ষতা ও পাকিস্তানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তিরও অভিযোগ রয়েছে। মোট কথায় জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ স্বরূপ। দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করা, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ ও স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তিদের নিশ্চিহ্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন জিয়া। দেশের রাজনীতিতে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা ও হানাহানি সৃষ্টি হয়েছিল জিয়ার শাসনামলেই। বিএনপিকে রাজনৈতিক ক্লাবে পরিণত করেছিলেন জিয়া। সর্বসাধারণের জন্য রাজনীতিকে কঠিন করে তুলেছিলেন তিনি। শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশিদের জন্য কালের অভিশাপ হয়ে এসেছিলেন জিয়া।

ইতিহাসবিদদের মতে, একজন সামরিক অফিসারের বন্দুকের নলে ক্ষমতা দখল, নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা, অবৈধ উপায়ে একই সাথে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকা, হ্যাঁ-না ভোট, সামরিক শাসন নিয়ন্ত্রিত ঘরোয়া রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজনীতি, উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবৃক্ষ রোপণ, মদ, জুয়া ও পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ইচ্ছামতো ফরমান আদেশ অধ্যাদেশ জারির মতো যাবতীয় কুকর্মের সাক্ষী জিয়ার শাসনামল। রাজনীতির কালসাপ ছিলেন জিয়া। সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন ক্ষমতালোভী জিয়া। তাই জিয়ার কুকর্মের দায়ভার নিয়ে সারাজীবন বিএনপিকে হিনমন্নতায় ভুগতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি