বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বিএনপি-জামায়াতের দুই বিবৃতিতে ‘নাম না নেওয়ার’ কৌশল



বিএনপি-জামায়াতের দুই বিবৃতিতে ‘নাম না নেওয়ার’ কৌশল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.09.2021

বিএনপি ও জামায়াতের দুটি বিবৃতি নিয়ে অনেকের মনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দুটি বিবৃতিতে দৃশ্যত পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ দুটি দল। পৃথক এ বিবৃতিতে নাম না নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন দল দুটির নেতারা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সাম্প্রতিক ‘বিতর্কের’ প্রেক্ষাপটে জামায়াতের বিবৃতিতে ‘মহান ব্যক্তিদের’ নিয়ে বিতর্ক না করার আহ্বান জানানো হলেও জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেনি দলটি। দৃশ্যত, এর পাল্টা হিসেবে বিএনপি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১০ জনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানালেও ওই বিবৃতিতে জামায়াত শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেনি জোটের প্রধান দলটি।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তার সে অবদান এখন অস্বীকার করছে ক্ষমতাসীন দল। এমনকি চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কিনা- তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা। এ নিয়ে জামায়াতের বিবৃতিতে জিয়াউর রহমানের নামটি একবারও উল্লেখ করা হয়নি। এটা বিএনপি নেতাদের হতবাক করেছে। এ নিয়ে দলের তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড পর্যন্ত ক্ষুব্ধ।

সূত্র জানায়, এসব কারণে গত সোমবার বিকেলে জামায়াতের গোলাম পরওয়ার ও কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করার পরও বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। মঙ্গলবার সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক করার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে বিএনপি মহাসচিব জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তারে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। সোমবারও বিরোধী দলের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

গত সপ্তাহে গোলাম পরওয়ার বিবৃতি দিয়ে দেশের সম্মানিত ও মহান ব্যক্তিদের নিয়ে অহেতুক বিতর্ক না করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের সম্মানিত ও মহান ব্যক্তিদের নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাপারে অসম্মানজনক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। যে বিষয়গুলো নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা হচ্ছে, তা দেশের জনগণকে মর্মাহত করেছে।’

জিয়াউর রহমান ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর এ বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির উদ্দেশে বলেন, তাদের দলের শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির রায় কার্যকর করা হলে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বিএনপির বিবৃতিতে ভাষাগত কোনো অন্যায় হয়েছে বলে তো আমি মনে করছি না। জিয়াউর রহমান বীরউত্তম সম্পর্কে কটূক্তি, বিভ্রান্তিকর ও অসম্মানজনক কথাবার্তার প্রতিবাদে যে ভাষায় বিরোধীদলীয় নেতারা বিবৃতি কিংবা বক্তব্য দিয়েছেন; বিএনপিও সেই একই ভাষায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’

এ বিবৃতিতে পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরি হবে কিনা- এমন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা হবে না। কারণ, তারাও সতর্কতার সঙ্গে বিবৃতি দিয়েছে, আর আমরাও সতর্কভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। সতর্ক থাকতে তো কারও কোনো আপত্তি নেই।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপি নেতাকর্মীসহ সারাদেশের জনগণের আবেগের জায়গা। হয়তো জামায়াতের কোনো কৌশলের কারণে এটা করা হয়েছে। একই কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপিও এ রকম বিবৃতি দিয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ জানান, ‘বিএনপির রাজনীতিতে তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা কিংবা কৌশল আছে। তাদের বিবৃতির ভাষা কী হবে, তা আমরা নির্ধারণ করে দিতে পারি না। এটা সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার।’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি