বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বিএনপির সমর্থক হয়ে বিএনপির সমালোচনা করলেই বহিষ্কার



বিএনপির সমর্থক হয়ে বিএনপির সমালোচনা করলেই বহিষ্কার


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.09.2021

নিউজ ডেস্ক : বিগত ১৪ বছর যাবত ধৈর্য্য ধরলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতারাই বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে চরম সমালোচনা করছেন। তবে বাক স্বাধীনতার এই ব্যবহারকে আপতত বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এমনকি সিনিয়র কোন নেতার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন লেখা প্রচার যাবে না। নেতাদের কোন অনিয়ম, বিচ্যুতি চোখে পড়লেও সেটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না। প্রয়োজনে হাইকমান্ডকে ফোনে অনিয়মের বিষয়ে জানাতে হবে। দলীয় নেতাদের সমালোচনা বন্ধে তৃণমূল কর্মীদের ফেসবুকসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিগগিরই এসব নিয়ম করতে যাচ্ছে বিএনপি, এমনটাই জানা গেছে।

বিএনপি ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলছে, দেড় বছর ধরে নেতাদের ঘরে বসে থাকা, একাদশ নির্বাচনে পরাজয়, বেগম জিয়ার মুক্তি আদায় ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়তে ব্যর্থতার সমালোচনায় বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলের সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, কমিটি মনোনয়ন, পদ বিতরণসহ নানা ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে হাইকমান্ডকে দুয়ো শুনতে হচ্ছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে এসব অনিয়ম, বিচ্যুতি নিয়ে কর্মীদের লেখালিখির কারণে তৃণমূল বিএনপিতে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা ও হতাশা। যার ফলে সংগঠিত করা যাচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়া তৃণমূল বিএনপিকে। এছাড়া বেগম জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুলদের মতো নেতাদের নিয়ে নিজ দলীয় কর্মীরা কঠোর সমালোচনা করায় রাজনীতিতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে হাইকমান্ডকে। অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুকে দলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক লেখালিখির কারণে অবিশ্বাস, অনাস্থা ও হতাশার কারণে দলত্যাগী নেতাদের সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে। তাই দলীয় প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্মান রক্ষার পাশাপাশি তৃণমূলে দলত্যাগ আটকাতে ফেসবুকে কর্মীদের নেতিবাচক লেখা বন্ধ রাখতে কঠোর হচ্ছে বিএনপি। কোন বিষয়গুলো নিয়ে ফেসবুকে দল ও দলীয় নেতাদের সমালোচনা করা যাবে বা প্রচার করা যাবে না, সেটির খসড়া তৈরি করে এরই মধ্যে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। তারেক রহমান অনুমোদন দিলেই সেটিকে দলীয় আইন বানিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সমালোচনা ঠেকাতে ব্যবহার করা হবে। আর যারা আইন অমান্য করে নেতিবাচক লেখালিখি করবে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে হাইকমান্ড। বেশি বাড়াবাড়ি করলে বহিষ্কারও করা হতে পারে। মোট কথায় দলের সম্মান রক্ষায় কঠোর হতে যা করবার তাই করবে বিএনপি।

ফেসবুক ব্যবহারে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে-আপনি যাকে তাকে অপমান করবেন। বিএনপি একটি বড় দল। এটি পরিচালনা করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। তবে সেটি নিয়ে ম্যাডাম জিয়া ও তারেক রহমানকে দোষারোপ করে তো কর্মীরা যাচ্ছেতাই মনোভাব প্রকাশ করতে পারে না। মোট কথায় নেতিবাচক রাজনীতি ঠেকাতে আমাদের এই আইন করতে হচ্ছে। মূল কথা হলো, দলের সমালোচনা, গোপনীয়তা-বিষয়ক কিছু নিয়ে কথা বলতে পারবেন না কর্মীরা।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা না করে কোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ শোনার জন্য একটি সেল গঠন করা হবে। সেখানে মোবাইল নম্বর দেয়া থাকবে। ফোন করে যেকেউ অভিযোগ দিতে পারবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি