বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » কমিটি বিলুপ্ত করেও সিলেটে গণপদত্যাগ ঠেকাতে পারছে না বিএনপি!



কমিটি বিলুপ্ত করেও সিলেটে গণপদত্যাগ ঠেকাতে পারছে না বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.09.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: কিছুদিন ধরে সিলেটে কোন্দল, পদত্যাগ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। কোন্দলের কারণে সিলেট বিএনপি আর উঠে দাঁড়াতে পারবে কি না সেটা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। এর মধ্যেই শুক্রবার সিলেটে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সব শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, নেতাদের পদত্যাগ ঠেকাতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে নেতা-কর্মীরা বলছেন, কমিটি বিলুপ্ত করে দলত্যাগ ঠেকানো যাবে না, বিএনপিকে রক্ষা করতে হলে কমিটি বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

জানা গেছে, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলার ১৩টি উপজেলা, ৪টি পৌর কমিটি ও মহানগরের ৬টি থানাসহ ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করার কথা জানানো হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান ও মহানগরের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহিদ দাবি করেন, দল পুনর্গঠনে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে তার এই দাবির সাথে স্থানীয় বিএনপির বেশিরভাগ কর্মীই দ্বিমত পোষণ করেন।

সূত্র জানায়, ১৭ আগস্ট কেন্দ্র থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল আহাদ খানকে আহ্বায়ক ও দেওয়ান জাকির হোসেন খানকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি এবং আবদুল ওয়াহিদকে আহ্বায়ক ও আজিজুল হোসেনকে সদস্যসচিব করে মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুটি কমিটিই টাকার বিনিময়ে করা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জামান পদত্যাগ করেন। ১৮ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। সামসুজ্জামানের পদত্যাগ ঘোষণার পর ২১ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে থাকা ১১ জন পদত্যাগ করেন। ২৩ আগস্ট জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের মহানগর সভাপতি ফয়েজ আহমদ দৌলত, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গফফার পদত্যাগ করেন। ২৫ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন উপজেলা কমিটির ১৫০ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন। এর দুদিন পর মহানগরের বিভিন্ন পদে থাকা আরও ৪৯ নেতা সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন। গণপদত্যাগ ঠেকাতে এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

জানা গেছে, সামসুজ্জামান বিএনপির ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলীর অনুসারী। এর আগে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পদে ছিলেন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সিলেটে তার অনুসারীদের প্রভাব কমতে থাকে। ফলে সিলেটের রাজনীতিতে ইলিয়াসবিরোধীরা সামনে চলে আসে। এই সিন্ডিকেট বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের টাকা দিয়ে সিলেট থেকে ইলিয়াস আলীর অনুসারীদের একে একে সরিয়ে দিচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইলিয়াস আলীর অনুসারীরা পদত্যাগ করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির নেতা হিসেবে তারেক রহমানের দলের ওপর যে কোন প্রভাব নেই গণপদত্যাগের এসব ঘটনাই তার প্রমাণ। একজন অযোগ্য লোক দলের নেতা হলে যা হয় সিলেটে তাই হচ্ছ। বস্তুত তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে ভালো করে জানার দরকারও মনে করেন না। যে টাকা বেশি দেয় তাকেই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেন তিনি। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। এই ভঙ্গুর আত্মবিশ্বাস এবং অযোগ্য নেতা নিয়ে বিএনপি কিছুই করতে পারবে না। দলটি দিন দিন ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি