বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বিএনপিতে যত নেতা তত গ্রুপ এর মধ্যে ফখরুল নিশ্চুপ



বিএনপিতে যত নেতা তত গ্রুপ এর মধ্যে ফখরুল নিশ্চুপ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.09.2021

নিউজ ডেস্ক: সমালোচনা, বিদ্রোহ, শো-ডাউন, পদত্যাগ- মাঠের রাজনীতির বাইরে এ বিষয়গুলো বিএনপিকে সব সময় উষ্ণ রাখে। দেশে রাজনীতির এই খরার সময়েও বিএনপি নেতারা যেন একে অপরের শত্রু।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলা নিউজ ব্যাংককে জানায়, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর থেকে দলের মধ্যে গ্রুপিং বেড়েছে। যার সূত্রপাত হয় তার মুক্তি আন্দোলন নিয়ে। আর খালেদার মুক্তি আন্দোলনে তারেক রহমানের নিরব ভূমিকা যেন ঘি ঢেলে দেয় দলটির বিভক্তিতে। আর এই বিভক্তির কারণেই নেতাদের মাঝে এক্যমতের অভাব দেখা দেয়। ফলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুখে আন্দোলন আন্দোলন বলে ফেনা তুললেও সারা নেই নেতাকর্মীদের। কারণ তিনি দলের মহাসচিব হলেও তার ডাকে ৫০জন নেতাকর্মীও সারা দেয় না। তাই তিনি দলীয় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করে যাচ্ছেন।

দলটির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপিতে নেতার অভাব নেই সত্য। গ্রুপিংও আছে, অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তারেকপন্থী আর খালেদাপন্থীদের দ্বন্দ্বে এখন দলের মধ্যে গ্রুপের সমারহ। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে যোগ দেওয়া নেতা রয়েছে অনেক। তারেক রহমানের অনেক হটকারী সিদ্ধান্ত বা নির্দেশে বিভক্তি বেড়েছে। সামান্যতেই সিনিয়র নেতাদের শোকজ করাসহ নানা কারণে বিভক্ত নেতারা তাদের অনুসারীদের নিয়ে কেউ পদত্যাগ করছেন, কেউ রাজনীতি ছাড়ছেন, কেউবা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে টিকে থাকতে চাইছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে সিলেট বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জামান গত ১৮ আগস্ট দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। এতে দলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয়। সামসুজ্জামানের ঘোষণার পর তার অনুসারী বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের প্রায় তিন শ পদধারী নেতা কয়েক দিনের ব্যবধানে পদত্যাগ করেন।

কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে দলে ফেরানোর চেষ্টা করলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে মহানগরের নেতাদেরও। ত্যাগীদের অবমূল্যায়ণ না করায় হাবীব উন নবী খান সোহেলের মতো একাধিক নেতা তাদের অনুসারীদের নিয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে দলকে দোষারোপ করায় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তারেকের রোষানলে পড়েন। সেই থেকে বিএনপির রাজনীতি দূরে রয়েছেন তিনি।

আরো জানা যায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দ্বন্দ্ব চরমে। রিজভী চায় মহাসচিবের পদ আর ফখরুল ছাড়তে নারাজ। আর রিজভী সবসময়ই দলীয় কর্মসূচী বা বিশেষ দিবস রিজভী তার অনুসারীদের নিয়ে আলাদাভাবে উদযাপন করেন।

এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শোকজ করায় সংবাদ সম্মেলন করে তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করেন তিনি। এখন তিনি দলীয় রাজনীতির বাইরে রয়েছেন তার অনুসারীদের নিয়ে।

রাজনৈতিক বিষেশজ্ঞরা বলছেন, খালেদা রাজনীতি থেকে দূরে থাকায় নেতৃত্ব তারেক রহমানের হাতে। তার অপরিপক্ক নেতৃত্বের কারণেই এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। বিভক্তি বাড়ায় নেতারা আলাদা হয়ে পড়ছে। ফলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর ঐক্যবদ্ধ্য না হতে পারলে বিএনপির অস্থিত্ব বিলীন হতে সময় বেশি লাগবে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি