বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » জিয়াকে নিয়ে কুতর্ক উস্কে দিয়েছেন তারেক



জিয়াকে নিয়ে কুতর্ক উস্কে দিয়েছেন তারেক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.09.2021

সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়া ও তার কুপুত্র তারেক জিয়া নূতন কুতর্ক উস্কে দিয়ে বলেছেন, তার পিতা “বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন।” মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করবার এবং নানাবিধ প্রচেষ্টা স্বাধীন বাংলাদেশে নতুন নয়। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার কুকর্মটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি নেতৃবৃন্দ চালিয়ে আসছেন। আগে চলেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। এখন সেটি চলছে দলটির অর্বাচীন নেতৃবৃন্দ কর্তৃক বিভিন্ন সেমিনারে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির এসব হীন প্রচেষ্টা অনৈতিক-অসাংবিধানিক এবং সেহেতু দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য হওয়া জরুরী।

১৯৭১-এর ১০ এপ্রিলে ঐতিহাসিক মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদে প্রণীত, গৃহীত ও ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক দলিল “স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র”তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, “যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাদের কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছে সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠন করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে, এবং যেহেতু আমরা বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা অনুমোদন করছি, এবং এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন, এবং রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন, এবং তাঁর কর ধার্য ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে এবং বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।” সুতরাং, জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত ভোটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে কে পদায়িত হয়েছিলেন তা সুস্পষ্টভাবে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। যে বা যারা এই ঐতিহাসিক বৈধ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তথা সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বলেন তারা শুধু ইতিহাস বিকৃত করেন না, সংবিধান লঙ্ঘন করেন।

আদতে “স্বাধীনতার ঘোষক”, “স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট” এসব বলার আসল উদ্দেশ্য হলো কোনো না কোনো ভাবে জিয়াউর রহমানের নামটি আলোচনার টেবিলে সচল রাখা। তাতে ইতিহাস, সংবিধান লঙ্ঘিত হলেও ক্ষতি নাই। কিন্তু কেন এই নীচ এবং হীন প্রচেষ্টা? আসলে খতিয়ে দেখা দরকার কে এই মেজর জিয়া?

১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন এবং যুদ্ধ শেষে পাক সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের পদক “হিলাল-ই-জুরাত” পদক জোটে তার ভাগ্যে। সূত্রঃ- উইকিপিডিয়া ও পাক ডিফেন্স ফোরাম। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত জিয়াউর রহমান অখ্যাত কোন মেজর ছিলেন না। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অনুগত এবং প্রচণ্ড রকম ভারতবিদ্বেষী ও মুজিববিদ্বেষী ছিলেন। তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন প্রতি পদে পদে।

জিয়াউর রহমান ১৯৬৮-৬৯-এ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে খ্যাত “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্যদের মামলা”য় পাকিস্তান সামরিক সরকারের কৌশুলি কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমানের সহকারী ছিলেন। কথিত আছে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে সামরিক সরকারের পক্ষে কথা আদায়ে এই দু’জন বঙ্গবন্ধুকে জেরা ও নির্যাতন করেন। সূত্রঃ- জেনারেল জিয়ার রাজনীতি, আবীর আহাদ।

১৯৭১-এর ২৬ মার্চ “স্বাধীনতার ঘোষণা” বেতারে সম্প্রচারের জন্য যখন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উদ্যোক্তাগণ জ্যেষ্ঠ বাঙালি সামরিক কর্মকর্তার খোঁজ করছিলেন তখন বাঙালি নিধনে সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের দায়িত্ব পালনে প্রেরিত হয়েছিলেন মেজর জিয়া। কনিষ্ঠ বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা তাকে পথ থেকে ধরে এনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে হাজির করেছিলেন। সূত্রঃ- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, বেলাল মোহাম্মদ।

বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের চূড়ান্ত এক সন্ধিক্ষণে ঘটনাচক্রে সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন স্বাধীনতার ঘোষক। প্রথমবার স্বাধীনতার ঘোষণায় নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করে পরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও অধীনে উল্লেখ পালন করেন। এটি ছিল পরিষ্কার অসততা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র।

মেজর জিয়ার কুকীর্তির কিছু কথা সংযোজিত হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ধারাক্রম পূর্ণতা পাবে। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ রাত ১১-৩০ মিনিটে ঢাকায় “অপারেশন সার্চলাইট” অনুযায়ী পাকবাহিনী কর্তৃক পূর্বপরিকল্পিত গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সিগন্যাল কোরের বাঙালি সৈনিকরা সে খবর ১ম জানতে পায় এবং তারা একত্রে সমবেত হয়ে সদলবলে রাত ১২-৩০ মিনিটে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। তখন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বাঙালি সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ১,৮০০ জন। এসময় তারা খবর পায় সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন বাঙালি অফিসার ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে পাকবাহিনী ইতোমধ্যে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। এ সংবাদে বাঙালি সৈনিকরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং পাক সৈনিকদের বন্দী অথবা কোনরকম বাধা পেলে হত্যার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তখন রাত ১টা থেকে ১-৩০ মিনিটে ২য় ইস্ট বেঙ্গলের কমান্ডিং অফিসার লে. ক. জানজুয়া তার অধস্তন টুআইসি মেজর জিয়াকে যে কোনো কৌশলে বাঙালি সৈনিকদের বিদ্রোহ দমনের নির্দেশ দেন। বসের নির্দেশনানুযায়ী পাক আর্মি ইন্টেলিজেন্সের বিশ্বস্ত ও চৌকষ কর্মকর্তা মেজর জিয়া বাঙালি সৈনিকদের উদ্দেশ্য করে তাৎক্ষণিক এক আবেগময় বক্তৃতায় তার অধীনস্ত সৈনিকদের অস্ত্র সমর্পণের অনুরোধ জানান এবং বলেন, বিদ্রোহ করবার প্রয়োজন হলে তা আমার নেতৃত্বেই হবে এবং জীবন দেওয়ার প্রয়োজন হলে সর্বপ্রথম আমিই জীবন দেবো। সুতরাং, আপনারা অবিলম্বে অস্ত্র সমর্পণ করে বিশ্রামে যান। বাঙালি সৈনিকরা তাদের ঊর্ধ্বতন বাঙালি এই অফিসারের আবেগপ্রবণ কথায় বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করে অস্ত্র সংবরণ করে এবং ঘুমাতে যায়। রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে নিরস্ত্র, ঘুমন্ত ১,৮০০ বাঙালি সৈনিকের উপর মাত্র ৫০০ বালুচ্ ও পাঞ্জাবী সৈন্যরা অতর্কিতে আক্রমণ চালায় এবং সর্বমোট ১,২০০ এর অধিক সৈনিক, তাদের পরিবার ও শিশুদের চরম নির্মমতায় নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। সুতরাং ২৫শে মার্চ গণহত্যার রাত থেকেই তথাকথিত ঘোষক মেজর জিয়ার হস্ত ছিল বাঙালির রক্তে রঞ্জিত! নিহত সেইসব সৈনিকদের স্মরণে দীর্ঘকাল চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কোন স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কোন পর্যায়েই তাঁদের নামও অন্তর্ভূক্ত হয়নি। কারণ এ ঘটনা প্রকাশিত হলে মেজর জিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপ উন্মোচিত হবে বলে তা সুপরিকল্পিতভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়। সূত্রঃ- ১. লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম); ২. সেনাপতির মুক্তিযুদ্ধ ছিনতাই এবং ৩. মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে মেজর জিয়ার পলায়ন, সিরু বাঙালী।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গোপনে ভারতে আগত প্রখ্যাত পাকিস্তানপন্থী ন্যাপ (ভাসানী) নেতা মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়াকে গাড়িতে করে বিভিন্নস্থান ঘুরিয়ে দেখানোর পাশাপাশি মাওলানা ভাসানীকে যাদু মিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র সফল করবার চেষ্টা করেছিলেন মেজর জিয়া। সূত্রঃ- উত্তর রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ, আখতারুজ্জামান মণ্ডল। উদ্দেশ্য ছিল মাওলানা ভাসানীকে পূর্ব পাকিস্তানে এনে নির্বাচন করিয়ে তাকে দিয়ে সরকার গঠন করা। কিন্তু মুজিবনগর সরকারের ত্বরিৎ পদক্ষেপে তা ভেস্তে যায়। সেসময় মাওলানা ভাসনীর অনুরোধে তাঁকে কিছুদিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।

এছাড়াও সৈয়দ নজরুল-তাজউদ্দীন নেতৃত্বাধীন মুজিবনগর সরকারকে উৎখাত করে তদস্থলে প্রধান সেনাপতি ওসমানীর নেতৃত্বে ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের সমন্বয়ে “ওয়ার কাউন্সিল” গঠন করে তখনই “সামরিক ক্যু” করবার ষড়যন্ত্র করেছিলেন মেজর জিয়া। খালেদ মোশাররফের প্রচণ্ড বিরোধীতায় তা ভেস্তে যায়। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্ব ডিসেম্বরের ৬ তারিখের পরপর মিশর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কতিপয় বাঙালী অফিসার “পঞ্চম বাহিনী” হিসেবে ভারতে আগমন করে। এদের মধ্যে সম্ভবত ফারুক-রশীদ-ডালিম সহ আরো অনেকেই ছিল। এই খুনীরা মেজর জিয়ার শেল্টারে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার নামে নানারকম ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে। বারংবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও কর্নেল ওসমানী এবং মেজর জিয়ার কারণে এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধের একেবারে শেষদিকে যখন ভারতবর্ষ পাকিস্তান কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের পক্ষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনার মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত, যখন মার্কিন ৭ম নৌবহর বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার দিকে ধাবিত তখন মেজর জিয়া ও তার খুনী সহযোগীরা মিলিত ধ্বনি উচ্চারণ করেছিল এই বলে যে, ৭ম নৌবহর ঠেকাতে এখন আমাদের সর্বশক্তি নিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে যাওয়া উচিত কোনোভাবেই ঢাকা অভিমুখে নয়।এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, মেজর জিয়া ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী সফল পাকিস্তানী গুপ্তচর। এরকম বহুবিধ বিভ্রান্তিকর উপায়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়কে স্যাবোটাজ করে চোরাবালিতে নিক্ষেপ করবার ষড়যন্ত্রের জাল বুনে গেছে মেজর জিয়া ও তার সহযোগীরা।

প্রকৃতপক্ষে জিয়াউর রহমান ছিলেন উচ্চাভিলাষী এবং কৌশলী। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সংঘটিত বঙ্গবন্ধু হত্যার নীলনকশা সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত ছিলেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের পুরোভাগে না থেকেও তিনি ছিলেন এর প্রধান সুবিধাভোগকারী। ১৯৭৫-৭৬ সনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংঘটিত অসংখ্য সেনাবিদ্রোহ নির্মমভাবে দমন করে বিচারের নামে প্রহসনের ট্র্যাইবুন্যাল গঠন করে শত শত সৈনিকের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ঘটনার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জিয়াউর রহমানকে “ঠাণ্ডা মাথার খুনী” বলে উল্রেখ করেছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি