বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বিএনপি জামায়াতের ইন্ধনেই চলেছিল তাণ্ডব, আদালতে হেফাজত নেতারা



বিএনপি জামায়াতের ইন্ধনেই চলেছিল তাণ্ডব, আদালতে হেফাজত নেতারা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.09.2021

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কাঁধে ভর করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল বিএনপি ও জামায়াত-শিবির। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে হাটহাজারীসহ সারা দেশের তাণ্ডব ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

এসব তাণ্ডব সৃষ্টিতে বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন ছিল। এমনকি এ দুই সংগঠনের নেতারা চট্টগ্রামে নাশকতায় হেফাজতকে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছিল। হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন শীর্ষ নেতা গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারওক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন।

পুলিশ এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে। নাশকতায় সরাসরি জড়িত, অর্থদাতা ও ইন্ধনদাতা হিসাবে বিএনপি-জামায়াতের কয়েকশ নেতাকর্মীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে দেওয়া কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার জেরে ওই দিনই চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন।

সে সময় হাটহাজারী থানায় হামলা, ভূমি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পুলিশ সদস্যকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা হয়। এসব মামলায় সাড়ে ৪ হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ।

এসব মামলায় ইতোমধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী, ফটিকছড়ি জামায়াতকর্মী আফতাব উদ্দিন পেয়ারু, হেফাজত নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি হারুন ইজহার ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ৭০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হাটহাজারীতে নাশকতার ঘটনায় ৩০ মে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইনামুল হাসান ফারুকীকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিহান সানজিদা এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে তিনি হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি হারুন ইজহারসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের সখ্য থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, তারা নিয়মিত বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ২৬ মার্চ হাটহাজারীতে নাশকতায় বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান কেশব চক্রবর্তী বলেন, হেফাজতে ইসলামের নাশকতার ঘটনায় হাটহাজারী থানায় করা ১১ মামলার মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে অপহরণের ঘটনায় করা একটি মামলা তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া, দুটি মামলা তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও আরও দুটি মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা (সিআইডি)। বাকি মামলাগুলো হাটহাজারী থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশ সদস্য অপহরণের ঘটনায় হাটহাজারী থানায় করা মামলার তদন্ত করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তারেক মো. আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, গ্রেফতার বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইনামুল হাসান ফারুকীর আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তিনি নাশকতা সৃষ্টি, ইন্ধন ও অর্থদাতা হিসাবে বিএনপি-জামায়াতের অনেকের নাম উল্লেখ করেছেন।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, হেফাজতে ইসলামের কাঁধে ভর করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করেছিল বিএনপি-জামায়াত। যা ইতোমধ্যে গ্রেফতার একাধিক হেফাজত নেতা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারা জবানবন্দি ও রিমান্ডে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন। আমরা এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে দেখছি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি