বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » নিজেদের মানুষের হাতেই লাঞ্ছিত হচ্ছেন মহিলা দল কর্মীরা!



নিজেদের মানুষের হাতেই লাঞ্ছিত হচ্ছেন মহিলা দল কর্মীরা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.09.2021

নিউজ ডেস্ক: যতই দিন যাচ্ছে একের পর এক ততই বেরিয়ে আসছে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর হাড়ির খবর। এবার জানা গেলো, জাতীয়বাদী মহিলা দল কর্মীরা তাদের দলীয় সহকর্মীদের হাতে প্রায়শই লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হচ্ছেন। দফায় দফায় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এর বিচার চাইলেও মিলছে না প্রতিকার। তাই রাগে-ক্ষোভে অনেকেই দল ছাড়ছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, আগে থেকেই রয়েছে সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে যুক্ত হয়েছে নিজ সংগঠনের কর্মীদের হাতে দফায় দফায় লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা। ফলশ্রুতিতে দিন দিন অকার্যকর ও বিশৃঙ্খল দলে পরিণত হচ্ছে বিএনপির এই অঙ্গ সংগঠন।

সরিষাতেই ভূত থাকলে উন্নতি অসম্ভব উল্লেখ করে বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে বাড্ডা থানা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ভাইস-চেয়ারম্যান রেহানা সুলতানা বলেন, বারবার আমরা মার খাই। পেছন থেকে চুল টানে, খোপা টানে। জামা ছিঁড়ে ফেলে। আমি একটা মেয়ে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আমার একটাই অনুরোধ ,আমাদের নিরাপত্তা দিন। আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। নতুবা কিভাবে আমরা সংগঠন করবো? কিভাবে উন্নতি করবো? সরিষার ভেতরের এই ভূতগুলো তাড়ান, প্লিজ।

একই সুরে বললেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি পেয়ারা মোস্তফাও। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি এখন আমাদের জীবন হুমকির সম্মুখীন। উই পোকা ঢুকেছে। এখন এই উইপোকা বের করতে হবে। আর এই দায়িত্ব তারেক রহমানকেই নিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ৫ বছর আগে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সুপার ফাইভ কমিটি অনুমোদন দেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর থেকেই নানা ইস্যুতে শুরু হয় সভাপতি-সম্পাদক দ্বন্দ্ব। যা এখন রীতিমতো মারামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে। অচিরেই যদি লাগাম টেনে না ধরা হয় তবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে ঘরোয়া আলোচনাসভা, সব কর্মসূচিতেই নিজ দলের সহকর্মীদের হাতে এভাবেই লাঞ্ছিত হতে থাকবেন মহিলা দল কর্মীরা।

এসব বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, কর্মীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে এ রকম ঘটনা আর ভবিষ্যতে না ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মহিলা দলের অন্তর্দ্বন্দ্বে বর্তমানে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। এ কারণে সম্প্রতি দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল তাদের সতর্ক করেছেন যাতে, বিশৃঙ্খলা মিটিয়ে সব আবার ঝামেলাহীনভাবে চলে। কিন্তু আদৌ কি তা হবে? কারণ, কথায় আছে ‘কয়লা যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে’।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি