রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১



রাজনীতিকে গুডবাই জানালেন ইশরাক?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.09.2021

বিএনপির রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেন যেন হঠাৎ আলোর ঝলকানি মত। পিতার মৃত্যুর পর তিনি ঢাকার সূত্রাপুর থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু সে সময় তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এরপর লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ইশরাকের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন এবং নির্বাচনের পর ইশরাক হোসেন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণে ইশরাক হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হয় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইশরাক হোসেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোট তিনি যাই পান না কেন নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মোটামুটি সাড়া জাগাতে পেরেছিলেন। বিএনপির নেতারাও স্বীকার করেন যে, অনেকদিন পর বিএনপিতে একজন ক্যারিশমাটিক তরুণকে পাওয়া গিয়েছিল যিনি তরুণদের মন জয় করতে পেরেছিলেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকে তার ভেতর সাদেক হোসেন খোকার ছায়াও দেখতে পেয়েছিলেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইশরাক দমে যাননি। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবার চেষ্টা করেছিলেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে বিএনপির তরুণদের মন জয় করেছেন। বিএনপিতে ভবিষ্যতে একজন তারকা নেতা হিসেবে তার সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছিল। এই সময় বিএনপিকে ঢেলে সাজানো জন্য অনেকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে ইশরাক হোসেনকে যেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন ঢাকা মহানগরীতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় তখন দেখা গেল যে ইশরাক হোসেনকে শুধুমাত্র কমিটিতে রাখা হয়েছে। এরপর ইশরাক রাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং এখন তিনি রাজনীতিতে মোটামুটি নিষ্ক্রিয়ই রয়েছেন। ইশরাক হোসেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে যে, রাজনীতির ওপর এক ধরনের বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে তার এবং ইশরাক হোসেন মনে করেন যেভাবে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে তাতে বিএনপি ক্রমশ সংকটে পড়বে এবং অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। আর এই কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকে গুডবাই জানাতে পারেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যদিও এখন পর্যন্ত ইশরাক হোসেন রাজনীতি ছাড়া না ছাড়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি নেই। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শুরু থেকে বিএনপির ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত ইশরাক যেভাবে রাজনীতিতে সরব এবং সচল ছিলেন, কমিটি গঠনের পরপরই তিনি ততটা নীরব এবং দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। তাঁকে দলের কোনো কর্মকাণ্ডেই আর দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির একাধিক নেতা স্বীকার করেন যে, বিএনপির এই দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য ইশরাক হোসেনের মত তরুণ জনপ্রিয় নেতাদের দরকার কিন্তু যেভাবে বিএনপিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে তার ফলে এখন ইশরাক হোসেন আদৌ রাজনীতিতে থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়।

উল্লেখ্য যে, ইশরাক হোসেনের বাবা সাদেক হোসেন খোকা বিএনপির একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ করার কারণে তিনি জামায়াত বিরোধীও ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ হলেও সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে তারেকের দূরত্ব ছিল। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার জনপ্রিয়তা এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে তারেক জিয়া সাদেক হোসেন খোকাকে মাইনাস করতে পারেননি। এখন সাদেক হোসেন খোকার রাগ তারেক জিয়া কি ইশরাকের উপর শোধরাচ্ছেন কিনা সে নিয়েও বিএনপিতে নানামুখী আলোচনা চলছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি