বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১



বিএনপিতে আবার ফালু বনাম হারিস


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.09.2021

মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং হারিস চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ বিএনপিতে অনেক পুরনো বিষয়। দুজনেই এখন মূল দলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেই কিন্তু দুইজনের প্রভাব এখনো দলের মধ্যে রয়েছে। গত তিন দিনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে ফালু হারিসের দ্বন্দ্ব আবার নতুন করে সামনে এসেছে। মোসাদ্দেক আলী ফালু একাধিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। সেখান থেকেই তিনি তার ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।

অন্যদিকে হারিস চৌধুরীর লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে আছেন আবার তিনি নিজেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। ফালু এবং হারিস চৌধুরী দ্বন্দ্ব শুরু হয় ২০০১ সালে। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অভাবনীয়ভাবে জয়ী হওয়ার পর মোসাদ্দেক আলী ফালু পাদপ্রদীপে আসেন। এসময় তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী থেকে তিনি এক লাফে একান্ত সচিব হয়ে যান এবং এরপরই বিএনপিতে অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে তাকে গণ্য করা হত। কিন্তু ১৯৯৬ সালের পর তারেক যত রাজনীতিতে আসতে থাকে, তত ফালুর ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব কমতে থাকে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হওয়ার পর মোসাদ্দেক আলী ফালু কে রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয় বটে কিন্তু হারিস চৌধুরী রাজনৈতিক সচিব সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে সেইসময় তারেক জিয়া আধিপত্যে বেগম খালেদা জিয়া যেমন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তেমনি হারিস চৌধুরীর আধিপত্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত হন মোসাদ্দেক আলী ফালু পরে তাকে তেজগাঁও আসনের প্রার্থী করা হয় এবং সেখান থেকে নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি ছিটকে পড়েন।

কিন্তু তারপরও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিয়ার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সখ্যতা এবং সুসম্পর্ক ছিল খালেদা জিয়ার নির্দেশেই আরাফাত রহমান কোকোকে মোসাদ্দেক আলী ফালু সব ব্যবসা বাণিজ্য মূল্য দিতেন। এরপর সর্বশেষ কাউন্সিলে মোসাদ্দেক আলী ফালু কে সেখান থেকে তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করলে কি হবে এখনো বেগম খালেদা জিয়ার অনুসারীদের প্রধান পথপ্রদর্শক এবং সহানুভূতি ত্রাতা হলেন মোসাদ্দেক আলী ফালুর। এখন স্পষ্ট দুটি পক্ষ হলো খালেদা জিয়ার অনুসারীদের পক্ষ, অন্যটি তারেক জিয়ার অনুসারীদের পক্ষ। দীর্ঘ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার পরও তিনি সম্প্রতি পাদপ্রদীপে এসেছেন এবং এখন অন্যতম পরামর্শক হিসেবে তাকে দেখা যাচ্ছে। গত তিনদিনের বিএনপি`র রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হারিস চৌধুরী তারেক জিয়াকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়।

মূলত হারিস চৌধুরী ছিলেন তারেক জিয়ার দুর্নীতির পার্টনার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন ফাইলের খবর দেওয়া এবং সে ফাইল আটকে রেখে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা এবং সেই চাঁদা ভাগ বন্টন করা ছিল হারিস চৌধুরীর প্রথম কাজ। ওয়ান ইলেভেন আসার পর তিনি পালিয়ে ভারতে যান। দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করছিলেন এখন তিনি আবার রাজনীতিতে সরব হয়েছেন। এখন তিনদিনের বৈঠকে বিএনপি তে বিভিন্ন পদে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পদায়ন কমিটি বাণিজ্য বন্ধ করা বা অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে যখন আলোচনা হয়েছে তখন মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং হারিছ চৌধুরীর পক্ষে বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি অবস্থান এসেছে।

অনেকে বলেছেন যে জনাব মোসাদ্দেক আলী ফালু বিভিন্ন রকম নির্দেশনা দেন। আবার কেউ কেউ হারিছ চৌধুরী কথা বলেছেন। অর্থাৎ বিএনপিতে আবার বেগম জিয়ার পন্থী এবং খালেদা এবং তারেক পন্থীদের এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন করে চাঙ্গা হলেও অনেকে মনে করছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি