বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » তারেককে ‘মোটা অংকের’ চাঁদা দিতে গিয়েই ইভ্যালির এই হাল!



তারেককে ‘মোটা অংকের’ চাঁদা দিতে গিয়েই ইভ্যালির এই হাল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.09.2021

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের আলোচিত ইস্যুর নাম ইভ্যালি কাণ্ড। পক্ষে-বিপক্ষে যখন এই ই-কমার্স সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা, তখন পাওয়া গেলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেলো, লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ‘কাছের মানুষ’ ছিলেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল। ছাত্রজীবনে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই ব্যক্তি প্রতিমাসে ‘গুরু দক্ষিণা’ হিসেবে তারেককে পাঠাতেন মোটা অংকের টাকা। পরবর্তীতে লন্ডন থেকে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে বললে শুরু হয় তার অভিনব প্রতারণা। যারই ধারাবাহিকতায় আজ তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির এই হাল।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে ইভ্যালির যাত্রা শুরু। কিন্তু সাবেক ডায়াপার ব্যবসায়ী রাসেল কোনভাবেই কোম্পানিকে এগিয়ে নিতে পারছিলেন না। ঠিক তখনই তারেকের প্রচ্ছন্ন নির্দেশনায় তার পাশে এসে দাঁড়ান বিএনপির সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নতুন উদ্যমে প্রতারণার সুঁই-সুতোতে গাঁথতে থাকেন সাধারণ মানুষকে। দিতে থাকেন ‘সাইক্লোন’,‘আর্থকোয়াক’ কিংবা ‘পুরাই গরম’ ধাঁচের পণ্য বিক্রির অফার।

কোম্পানিতে রাসেলের পোশাকি পদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকলেও তার এই ‘আলো-আঁধারি’ প্রকল্পের ছায়াসঙ্গী স্ত্রী শামীমা নাসরিন। মূলত তাদের তিনজনার মাথা থেকেই মানুষকে বোকা বানানোর সব নিত্যনতুন ফন্দি বের হতো এবং উপার্জন শেষে একটা বড় অংশ চলে যেতো হুন্ডির মাধ্যমে লন্ডনে তারেকের কাছে।

এভাবেই চলে আসছিলো। পথিমধ্যে রুমিন সেক্স টয়ের ব্যবসা শুরুর কথা বললে রাসেলের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। মনোমালিন্যের এক পর্যায়ে বেশ কিছুদিন রাসেলের সঙ্গে কথাও বন্ধ রাখে রুমিন। এর ফাঁকে তারেকের বুদ্ধি-পরামর্শ মোতাবেক গ্রাহকদের সামনে নতুন নতুন ‘লোভের হাঁড়ি’ নিয়ে আসেন রাসেল। অল্প দিনেই বনে যান পাহাড় সমান সম্পদের মালিক। যা দেখে তাজ্জব হয়ে যান অর্থলোভী তারেক। শিষ্য রাসেলকে বলেন চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে। ব্যস্, আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন রাসেল। এরপরের ইতিহাস, সবারই জানা। তারেকের বিলাসী জীবনযাপনে অর্থ যোগান দিতে গিয়ে আজ অর্থ লোপাটের মামলায় স্বামী-দুজনই বন্দি চৌদ্দ শিকে।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, রাসেল দম্পতি গ্রেপ্তারের পরেই পুরনো রাগ ভুলে আবার তাদের পক্ষেই কথা বলছেন রুমিন। বলছেন, তাদের ছেড়ে দেয়া হোক। তাহলে সাধারণ গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। তাদের অর্থ ফেরত পাবেন।

রুমিনের এমন ‘মায়া কান্না’র কারণ জানালেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বললেন, গ্রাহক নয়, রুমিন নিজের স্বার্থেই এমনটা বলছেন। কারণ, ইভ্যালিতে তারও অর্থ লগ্নি করা আছে। আর যেটা তিনি তারেকের নির্দেশেই করেছিলেন অধিক মুনাফার আশায়। কিন্তু অতি লোভে যে তাঁতি নষ্ট, তা এখন সময়ের বিবর্তনে বুঝতে পেরেই তিনি এমনটা করছেন।

রাজনৈতিক এই বিজ্ঞজনরা বাংলানিউজ ব্যাংককে আরও বলেন, ইভ্যালির মোহাম্মদ রাসেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাবি’ পড়াকালে ছিলেন ছাত্রদলের একজন ভয়ঙ্কর ক্যাডার। শুধু তাই নয়, ছিলেন জাবির মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকও। আর এ কথা কম-বেশি সবাই-ই জানেন। মূলত তখন থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে দারুণ সখ্যতা তার। আর সেই সময় থেকেই তারেককে গুরু মানেন তিনি। যে কারণে গুরুকে ‘গুরু দক্ষিণা’ হিসেবে অর্থ যোগান দিতে গিয়েই সাধারণ জনগণের অর্থ লোপাট করে লন্ডনে পাচার করেন তিনি। যে কারণে আজ তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ইভ্যালি ও তাদের স্বামী-স্ত্রীর আজ এই হাল।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি