রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » ১০ বছরের শিশুও বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের ছোবলে সম্ভ্রম হারিয়েছিল



১০ বছরের শিশুও বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের ছোবলে সম্ভ্রম হারিয়েছিল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.09.2021

নিউজ ডেস্ক: ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোলার লালমোহন থানার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের জীবনে নেমে আসে চরম বিভীষিকা। নির্বাচনে জেতার পরও বিএনপির অনেক নেতা ও কর্মী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। ভোলার অনেক জায়গায় তারা পৈশাচিক মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর। মালামাল লুটপাটের পাশাপাশি তারা হিন্দু মহিলাদের সম্ভ্রমও লুটে নেয় গণহারে। সম্ভ্রম লুটের ব্যাপক ঘটনা ঘটে লালমোহন থানার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে।

তথ্যসূত্র বলছে, বিএনপি-জামায়াত ক্যাডারদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয় এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশু, কিশোরী, যুবতী, এমনকি বৃদ্ধাসহ সর্বস্তরের শত শত নারী। ১০ বছরের শিশু থেকে ৫০ বছরের বৃদ্ধাও ধর্ষিত হয়েছে নরপশুদের হাতে। এমনকি পঙ্গু শেফালিও রক্ষা পায়নি তাদের হাত থেকে। নরপশুদের মায়ের বয়সী বিষ্ণুপ্রিয়া, সরুবালা, মাধুরী ও শংকরীর মত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলারাও নরপশু লম্পটদের লালসার শিকার হয়েছেন। এমনকি ধর্ষণের শিকার হয়েছে দশ বছরের শিশু রীতা রানী। ধর্ষিতাদের অনেকেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে একাধিকবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল রীতা রানীর ধর্ষণের কথাই স্বীকার করা হয় এবং ধর্ষণের সাথে জড়িত সেলিমকে (পিতা ইয়াসিন মাষ্টার) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারও করা হয়। বাদবাকি সব ধর্ষণের কাহিনীই পুলিশ বা প্রশাসন না জানার ভান করে এড়িয়ে যান। কেউ কেউ পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করেও কোন ফল পায়নি।

১ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২ অক্টোবর রাতে লর্ড হার্ডিঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আক্রমণ চালিয়ে লুটপাট ও ধর্ষণের মহোৎসব করে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। কোন কোন বাড়িতে ৪/৫ বারও আক্রমণ করা হয়। এর মধ্যে ভেণ্ডারবাড়ি উল্লেখযোগ্য। এ বাড়িতে আশেপাশের দরিদ্র হিন্দু পরিবারের শতাধিক মহিলা আশ্রয় নিয়েছিল। সন্ত্রাসী ও লম্পটরা টের পেয়ে ২ অক্টোবর রাত ৯ টায় প্রথমেই এ বাড়িতে আক্রমণ চালায়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেক মহিলা বাড়ি সংলগ্ন ধানক্ষেত ও পুকুরে নেমে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। কিন্তু লম্পটরা তাদেরকে সেখান থেকে ধরে এনে তাদের লালসা চরিতার্থ করে। ঐ সময় এদের ভয়ে মহিলাদের আর্তচিৎকার বহুদূর থেকে শোনা গেছে বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে। অস্ত্রধারী এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। রাতের মধ্যে ৪/৫ বার আক্রমণ হয়েছে এ বাড়িতে। একই মহিলা একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হন।

ভোলার লালমোহনের গণধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। সরকারের আশ্রয়ে নিপীড়করা বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করলেও প্রশাসন সেসময় তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় শুধু ভোলা নয় বরং সারা দেশেই ঘটতে থাকে নারী ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি