বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১



দল গোছাতে না পারলে পদ ছাড়েন : ফখরুলকে তারেক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.09.2021

নিউজ ডেস্ক: চলমান বৈঠকে সাফল্য না আসায় নতুন করে আবার আগামী মঙ্গলবার থেকেও টানা তিন দিনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনে যেতে চাইলেও দলীয় কোন্দল নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারেক। বেশিরভাগ জেলা পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হচ্ছে না তাই উত্তেজিত তারেক রহমান বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন।

লন্ডন বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র বাংলা নিউজ ব্যাংককে জানায়, জেলা পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার থেকে আবারো সভা করবেন তারেক রহমান। আর এই সভার প্রস্তুতি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপর। জেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতাদেরই তারেকের সভায় উপস্থিত না থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করায় বিরক্ত তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে ফোন করে বলেছেন- ‌’আপনারা কি করেন দেশে বসে? নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের কথা শুনবে না কেন? যদি দল গোছাতে না পারেন, পদ ছাড়েন’।

আরো জানা যায়, সিরিজ বৈঠকের প্রথম দফায় গত মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিন বৈঠক করেছে বিএনপি। কিন্তু তাতে দৃশ্যমান সাফল্য আসেনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বৈঠকটি যতটা না আন্দোলনকেন্দ্রিক, তার চেয়েও বেশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনেই ব্যতিব্যস্ত ছিল। বর্তমানে বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা, নেতৃত্বকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব এবং রাজপথে আন্দোলন কেন করতে পারছে না এ নিয়ে চলছে তীব্র কোন্দল। এবং এ কোন্দল ঠেকাতেই এ বৈঠক হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। বিএনপির নেতৃত্বস্থানীয় নেতারা যদিও বাইরে দেখানোর চেষ্টা করছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে, তবে বাস্তবতার সঙ্গে এ দাবি ঠিক মিলছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে এত বৈঠকের দরকার নেই। বিএনপি যেই এক দফা আন্দোলনের কথা বলছে তার জন্য সিরিজ বৈঠক করার কি দরকার আছে তাও বোধগম্য নয়। বিএনপি যদি মনে করে তারা সরকার পতন ঘটাবে তাহলে তাদের রাস্তায় আন্দোলন করতে হবে। এ নিয়ে এত বৈঠক করার দরকার নেই বলেও মতামত দেন বিশ্লেষকেরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরো বলেন, যেকোনো আন্দোলন করতে জনসম্পৃক্ততা লাগে। জনগণ ইতোমধ্যে জানে দলটির প্রধান দুই নেতা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত। এদের মধ্যে একজন আবার পলাতক। ফলে জনসম্পৃক্ত করার মতো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। আর দলটি আন্দোলনের জন্যও প্রস্তুত নয়। একদিকে বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সংখ্যা অনেক বেশি। ৮০ ভাগ কমিটিরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন দলের কাউন্সিল হয় না। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অর্ধেকেরও বেশি অসুস্থ। অনেকে আবার নিষ্ক্রিয়। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক দলকে আন্দোলন করতে গেলে দলের ভেতরে যে ধরণের ঐক্যের দরকার, সে ঐক্য বিএনপির মধ্যে অনুপস্থিত। আর এ কারণেই হয়ত বিএনপি বৈঠকগুলো করছে যেন দলের ভাঙ্গন ঠেকানো যায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি