রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » ২২ বছর পর কৃষকদলের নতুন কমিটি, জানেন না খালেদা!



২২ বছর পর কৃষকদলের নতুন কমিটি, জানেন না খালেদা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.09.2021

খালেদা

নিউজ ডেস্ক: এক-দুই বছর নয়, দীর্ঘ ২২ বছর পর নতুন কমিটি পেলো কৃষকদল। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, পূর্বের ন্যায় এবারও তারেক রহমান দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে না জানিয়েই এই কমিটি গঠন করেছন। যা নিয়ে দল ও রাজনৈতিক মহলে রীতিমত বইছে সমালোচনার ঝড়। খালেদাও বিষয়টি নিয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ। তার ভাষ্য, তারেকের এত সাহস হয় কোত্থেকে? ১/২ বার ভুল মেনে নেওয়া যায়, তাই বলে বারবার?

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, বয়সের খাতায় যতই সংখ্যা যোগ হচ্ছে, ততই যেন দলে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একের পর এক মিলছে তারই প্রমাণ। এর আগে তাকে না জানিয়ে সৌদি আরব বিএনপি, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ও ঢাকা মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর এবার ঘোষণা করা হলো কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি। কমিটিতে কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি ও শহীদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর (সোমবার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি সবাইকে জানানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুমোদিত ওই কমিটির অন্য পদগুলোতে রয়েছেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী টিএস আইয়ুব, যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি ও দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম।

কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে বাংলা নিউজ ব্যাংককে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি যেটা করেছি, সেটা তারেক রহমানের নির্দেশনাতেই করেছি। এখন তিনি (তারেক রহমান) ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অনুমতি নিয়েছেন কিনা, সে তথ্য আমার কাছে নেই। যদি জানতে পারি, তবে আপনাদেরকে জানাবো।

এ বিষয়ে খালেদার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচররা বলছেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অনেক বিশ্বাস করে দলের ভার তারেকের উপর দিয়েছিলেন। কিন্তু ধরাকে সরা জ্ঞান করে তিনি ম্যাডামের (খালেদার) বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন, মীরজাফরি করেছেন। নিজস্ব সাম্রাজ্য গড়ে তুলে ক্রমেই দলীয় নেত্রীকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। যার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দলীয় বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী দিনে। সেদিন ব্যানারে কোথাও ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ছবি ছিলো না। এখানেই শেষ নয়, তিনি ম্যাডামকে না জানিয়ে একের পর এক কমিটি ঘোষণা করে চলেছেন। যাদের কাছ থেকে টাকা বেশি পাচ্ছেন, তাদেরকেই তিনি কমিটিতে ঠাঁই দিচ্ছেন। তাই সে যোগ্য হোক আর অযোগ্য হোক। তার এই ‘বেপরোয়া স্বভাবের’ কারণেই বিএনপির আজ এই হাল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের মহানুভবতায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির পর থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার নীরব রেষারেষি চলে আসছে। তারই প্রেক্ষিতে দলের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত এখন স্বৈরাচারীভাবে তারেকই নেন। গর্ভধারিণী মা ও দলীয় চেয়ারপারসনকে জানানোর প্রয়োজনটুকুও বোধ করেন না। এ থেকে তাদের মধ্যকার ও দলীয় দ্বন্দ্ব যেমন সুস্পষ্ট হয়, তেমনি অনুধাবনও করা যায়, কেমন হতে যাচ্ছে তাদের অনাগত দিনগুলো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি