রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » কার্যকর নেতৃত্বের অভাব বিএনপিতে, স্বীকার করলেন দলের নেতারা



কার্যকর নেতৃত্বের অভাব বিএনপিতে, স্বীকার করলেন দলের নেতারা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.09.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্বণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে লন্ডনে পালিয়ে থাকায় ২০১৮’র নির্বাচনে দলটি কোনো প্রভাবই রাখতে পারেনি। খালেদা মুক্তি আন্দোলনে ব্যর্থতা, সরকারি দলের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বারবার পরাজিত হয়েছে বিএনপি। তুবও আন্দোলনেই সমাধান খুঁজছেন বিএনপি নেতারা। যদিও বিএনপি নেতাদের মুখে ‘আন্দোলন’ শব্দটি রীতিমতো এখন ‘কমিডিতে পরিণত’ হয়েছে।

আর এসবের জন্য ‘কার্যকর নেতৃত্বের অভাব’কে দায়ী করছে দলটির বেশিরভাগ নেতারা। তারা চায় অন গ্রাউন্ডে একজন প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব। এদিকে দেশে প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ঠিক করার বিষয়টি সামনে আসায় বিব্রতবোধ করছেন তারেক রহমান। দলটির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়েছে বাংলা নিউজ ব্যাংক।

বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, সঠিক নেতৃত্বে চলছে বিএনপি। ম্যাডাম রাজনীতি থেকে দূরে। শারীরিকভাবে আরও দূরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক সাহেব। দলটা চলবে কীভাবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির প্রধান কারণ শীর্ষ দুই নেতৃত্বের অনুপস্থিতি- এ কথা সব নেতারাই জানে কিন্তু এত দিন কেউ মুখ ফুটে বলার সাহস পায়নি। কারণ লোকাল নেতৃত্বের কথা বললেই তারেক সাহেবের বিরাগভাজন হতে হয়েছে। একবার তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এক ভার্চ্যুয়াল সভায় দল পরিচালনায় ‘লোকাল কমান্ডার’ ঠিক করার প্রস্তাব করেছিলেন কুমিল্লা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
এর পর মুন্সীর রাজনৈতিক ক্যারিয়রা ধ্বংস করে দিয়েছে তারেক রহমান।’

তিনি আরও বলেন, তবে বিএনপির এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। নির্বাহী কমিটির নেতাদের সাথে তারেক রহমানের ১ম দফার মতবিনিময় সভাতে কার্যকর নেতৃত্বের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তিনি ক্ষব্ধ হলেও দলের বেশিরভাগ নেতাই মনে করে এখন ‘লোকাল কমান্ডার’ দলে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ উদ্দিন বাংলা নিউজ ব্যাংকে বলেন, ‘আমি এর আগে বহুবার বলেছি, অন গ্রাইন্ড নেতৃত্ব দরকার বিএনপির রাজনীতিতে। আর আন্দোলন তো এমনি এমনি হয় না- যোগ্য নেতা লাগে। বিএনপিতে তো সবাই নেতা। কিন্তু কেউ কারো কথা শোনে না। আন্দোলনের কথা বললে সাধারণ মানুষ হাসাহাসি করে। ‘ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন’- এই কথাটা তো এখন জনগণের কাছে বিএনপির আন্দোলনের প্রতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আসলে জিয়াউর রহমানের পরে বিএনপিতে আর নেতা তৈরি হয়নি। আর নেতা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল সংসদে যেতে পারে না। চলমান বৈঠকগুলোতে গ্রাউন্ড নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্বসহ নেওয়া হয়েছে। কারণ দলের সবাই এখন চায়, দেশে কার্যকর নেতৃত্ব নির্ধারণ করে নির্বাচনের আগেই দলকে প্রস্তুত করতে।

উল্লেখ্য, ১ম দফার সভায় স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামন্ডলী এবং সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যরা আন্দোলন এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া- এ দুটোর সফালতার পেছনে একজন প্রত্যক্ষ এবং কার্যাকর নেতা নির্নয়ের কথা বলেছেন। তারা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে লন্ডনের কমান্ডের অপেক্ষায় বসে থাকা বিএনপির ব্যর্থতার অন্যতম কারণ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি