রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ইভ্যালির টাকায় ক্যাসিনোতে জুয়া ও নাইটক্লাবের ফূর্তিতে তারেক!



ইভ্যালির টাকায় ক্যাসিনোতে জুয়া ও নাইটক্লাবের ফূর্তিতে তারেক!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.09.2021

বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। জানা গেলো, প্রতারণার মাধ্যমে ইভ্যালি থেকে উপার্জিত অর্থ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার হুন্ডির মাধ্যমে তারেক রহমানের কাছে পাচার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল। সম্প্রতি গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন উপার্জন না করেও লন্ডনে চোখ ধাঁধানো আয়েশি জীবন যাপন করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি গোয়েন্দারা তার অর্থ যোগানদাতাদের একটি তালিকা হাতে পেয়েছে। সেখানে রয়েছে একাধিক বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীর নাম। যারা ঢাকা ও সিলেট থেকে হুন্ডির মাধ্যমে ‘মাসিক চাঁদা’হিসেবে তাকে ‘বিন্দাস জীবনযাপনের’ জন্য মোটা অংকের এই টাকা দিচ্ছেন। তাদের পাশাপাশি লন্ডনে অবস্থানরত সিলেটি রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী থেকেও মোটা অংকের টাকা পাচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল গ্রেপ্তারের পর পাওয়া গেলো নতুন তথ্য। র‌্যাবের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে
তিনি বলেন, লন্ডনের একটি হোটেল ও মোটেলের মালিকানার শেয়ার দেওয়ার কথা বলে তারেক বিভিন্ন সময় আমাকে প্রলুব্ধ করেন। দেন নানা প্রতিশ্রুতি। আমিও লোভের বশবর্তী হয়ে তাকে কয়েক দফায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার পাঠাই। টাকা পাওয়ার পর তিনি আমার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এমনকি আমাকে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার সব জায়গাতে ব্লক করে রাখেন। পরে আমি তার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, আমার পাঠানো টাকাতে তিনি একটি নাইটক্লাব কিনেছেন। শুধু তাই নয়, সেখানে নিয়মিত কম বয়সী মেয়েদের নিয়ে মদ খেয়ে ফূর্তিও করছেন। খেলছেন ক্যাসিনোতে গিয়ে রাতভর জুয়াও। বিষয়টি আমি তার স্ত্রী জোবায়দাকে বললে তিনি তারেকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে উল্টো তার কোমরের বেল্টের আঘাতে জর্জরিত হন। পরবর্তীতে আমি হতাশ হয়ে পড়ি। লস খেতে থাকি ধীরে ধীরে ব্যবসায়। যার প্রেক্ষিতে আজ আমার এই হাল।

রাসেল আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইভ্যালিকে শেয়ার মার্কেটে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হবে, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক আমার মাথা খেয়েছিলো। বলেছিলো, মার্কেটে ধ্বস দেখিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর দিয়ে এই অর্থের হিসেব মিটিয়ে দেবে। পরে সব টাকা কৌশলে বিদেশে সরিয়ে নেবে। কিন্তু তা আর হলো কই? অতি লোভে তাঁতিই নষ্ট হলো, আর অর্থ আত্মসাৎ করে বেঁচে গেলো তারেক। আছে বহাল তবিয়তে। তবে আল্লাহ সইবে না। এর বিচার করবে।

‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’ উল্লেখ করে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারেক রহমান এমনই তা ইভ্যালির রাসেল জানতেন। তবুও অঢেল সম্পদের আশায় তিনি তার সব কথা শুনেছেন। সেখানে ব্যবসার আশায় বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি কোম্পানিতে তারেক রহমানের সুপারিশে নিয়োগ দিয়েছিলেন অন্তত ৬ জন ব্যক্তিকে। ভেবেছিলেন, হ্যান্ডসাম স্যালারিতে তাদেরকে কোম্পানিতে রাখলে তারেক খুশি হবেন এবং লন্ডনেও তার ব্যবসায়িক পথ সুগম হবে। কিন্তু শেষমেষ ‘আম-ছালা’ উভয়ই গেলো রাসেলের। মধ্যে পড়ে ‘চওড়া হাসি’ হাসলেন তারেক। বললেন, এটাই আমি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি