রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » নব্বইয়ের চেতনায় আন্দোলন হলে সফলতা আসবে না



নব্বইয়ের চেতনায় আন্দোলন হলে সফলতা আসবে না


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.09.2021

বিএনপির সিরিজ বৈঠকের দ্বিতীয় দিন বুধবার আন্দোলনের পক্ষেই মত দিয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিরা। আন্দোলনের কৌশল নিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন নব্বইয়ের চেতনায় করলে সফলতা আসবে না। মনে রাখতে হবে, ১৯৯০ আর ২০২১ এক নয়। তখনকার প্রশাসন আর বর্তমান প্রশাসনও এক নয়। আন্দোলন সফল করতে হলে পরিকল্পনামাফিক কর্মসূচি দিতে হবে। এর আগে শক্তিশালী করতে হবে সব সংগঠন। ঘরে বসে কমিটি করলে হবে না, নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি শাখা কমিটি করতে হবে।’

তারা আরও বলেন, ‘আন্দোলনের জন্য শুধু সংগঠন শক্তিশালী করলেই চলবে না। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনও আদায় করতে হবে। এ জন্য বাড়াতে হবে দলের কূটনৈতিক তৎপরতা।’

এ সময় নির্বাচন কমিশন গঠন, ভবিষ্যতে জোটের রাজনীতিসহ আরও কিছু বিষয়ে অভিমত তুলে ধরেন নেতারা। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি তিনি অংশ নেন। বৈঠকে সাংগঠনিক বিভাগ চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

আজ শেষ দিনে হবে খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতির সঙ্গে বৈঠক। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৩ দিন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করে বিএনপির হাইকমান্ড।

দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে ১২৯ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৮৫ জন উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ৮৩ জন বক্তব্য রাখেন। মূল মঞ্চে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাবিথ আউয়াল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, আবদুল খালেক, রফিক শিকদার, মঞ্জুরুল আহসান, জাহাঙ্গীর আলম, মমিনুল হক, এসএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, মোস্তফা খান সফরী, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মাহবুব ইসলাম মাহবুব, কাজী রফিক, শেখ মো. শামীম, খন্দকার মারুফ হোসেন, একরামুল হক বিপ্লব, আলাউদ্দিন হেনা, জিয়াউদ্দিন, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির।

উপস্থিত ছিলেন- সিরাজুল হক, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সুলতান মাহমুদ বাবু, মাহমুদুল হক রুবেল, ইকবাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম হিলালি, লায়লা বেগম, শামসুজ্জামান মেহেদী, আরিফা জেসমিন, রাবেয়া আলী, ডা. আনোয়ার হোসেন, মোতাহার হোসেন তালুকদার, মো. ইকবাল, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আরিফুল হক চৌধুরী, শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, আবু কাহের শামীম, শাহ মোস্তফা, মজিবুর রহমান, হাসনা আক্তার সানু, গোলাম হায়দার, কাজী মফিজুর রহমান, ফোরকান ই আলম, সাচিং প্র“ জেরী, মামুনুর রশিদ মামুন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ডা. মাজহারুল ইসলাম, সুশীল বড়ুয়া, মশিউর রহমান, ডা. শাহাদাত হোসেন, শাহ আলম, আবু সুফিয়ান, ম্যামাচিং, এজেডএম রেজওয়ানুল হক, বিলকিস ইসলাম, সাইফুর রহমান রানা, আমিনুল ইসলাম, মীর্জা ফয়সাল, হাসান রাজিব প্রধান, শামসুজ্জামান সাবু, গফুর সরকার প্রমুখ।

সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম। সহযোগিতায় ছিলেন দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজুদ্দিন নসু, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন-চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। প্রায় ৬ ঘণ্টার বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থা এবং দলের করণীয় কি হতে পারে সে বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তারা মতামত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, একের পর এক আইন করে তারা (সরকার) সাংবাদিকদের, সংবাদপত্র ও লেখার যে স্বাধীনতা সেটাকে বিনষ্ট করেছে। দেশে একটা ত্রাসের কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। এর থেকে মুক্তি পেতে আমরা নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে আলোচনা করছি। আলোচনা শেষ হলে বিস্তারিত জানাব।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বেশিরভাগ নেতাই বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। দেশের সব বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যেতে হবে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পঞ্চগড় জেলা শাখার সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন আর ২০২১ সালে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন এক নয়। এখনকার প্রশাসন ও নব্বইয়ের প্রশাসন এক নয়। এ সরকার রাষ্ট্রের সব কিছু দলীয়করণ করেছে। ফলে নব্বইয়ের চেতনা নিয়ে আন্দোলন করলে হবে না। আন্দোলন করতে হবে পরিকল্পনামাফিক।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনে কোনো সমন্বয় নেই। কমিটি নিয়ে বাণিজ্যেরও অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, রাজনৈতিক কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। কিন্তু যখন হাইকোর্টে জামিনের জন্য আসি তখন দলীয় আইনজীবীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাই না। বরং আমাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়। অথচ এসব আইনজীবী হাইকমান্ডের কাছে বলেন, তারা নাকি ফ্রিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা দেখেন। এসব বিষয় হাইকমান্ডের জানা উচিত।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আন্দোলনে সফলতা আনতে হলে তৃণমূলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনে বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় থাকতে হবে। এত করে সংগঠন শক্ত হবে। সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সমর্থন আদায় করতে হবে। এজন্য দলের কূটনৈতিক উইংকে শক্তিশালী করা ও কার্যকর ভূমিকাও রাখতে হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মতামত শোনার পর দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের পদ-পদবি এবং সামাজিক অবস্থানের কারণে কেউ পালিয়ে থাকতে পারবেন না। আন্দোলনের ডাক আসলে কারাগারে যেতেই হবে। সেক্ষেত্রে রাজপথ থেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলে সেটাই হবে সফলতা।

সবাই আন্দোলনের কথা বলেছেন, দলকে শক্তিশালী করার কথা বলেছেন। আন্দোলনের মাঠে না থাকলে পদ-পদবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু আপনারা যে মতামত দিয়েছেন তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। তাহলে আন্দোলনে সফলতা আসবেই আসবে।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি