বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দুশ্চিন্তায় বিএনপি



সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দুশ্চিন্তায় বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.09.2021

নিউজ ডেস্ক: এমনিতেই নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিএনপির দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এর মধ্যে সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে দলটিকে। সক্রিয় রাজনীতিতে অস্তিত্বহীন দলটি পার্টি অফিস আর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কোনোরকম টিকে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী গুজব আর প্রোপাগান্ডায় তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আর এর পেছনের শক্তি হিসেবে কাজ করছে বিএনপিপন্থী সাংবাদিক নেতারা। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারবিরোধী এসব কাজ করেন তারা। সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব করায় ‘থলের বিড়াল’ বেরিয়ে আসার আতঙ্কে রয়েছে দলটি।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের প্রতিবেদককে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি জানান, তার মতো একজন শিক্ষিত মানুষ এসব নোংরামি আর সহ্য করতে পারছেন না। তিনি চান অপরাজনীতি বন্ধ হোক।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি বিএনপির জন্য স্পর্শকাতর। সিনিয়র নেতারা ধারণা করছেন, তাদের ব্যাংক হিসাব তলব করলে বিএনপির অনেক গোমর বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী গুজব, জাতির পিতা এবং বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের নানা তথ্য। যেগুলোর পেছনে প্রচুর অর্থ ঢেলে যাচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

তিনি আরো বলেন, বিদেশে কনক সরওয়ার, ইলিয়াস হোসেন নিয়মিত টাকা পান বিএনপি থেকে। যার প্রমাণ এর আগেও বেরিয়ে এসেছিল। আর কিছুদিন আগে তো ভিডিওপ্রতি ৬০০ ডলার করে দেওয়ার কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। কনক সরওয়ারের অডিও ফাঁসের বিষয়ে দলের নেতারা কথা বলছেন না। কারণ তা দেশের বাইরের ঘটনা। লক্ষ্য করলে দেখবেন, সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিএনপি নেতারা। বিভিন্ন সভা, অনুষ্ঠানে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এদিকে সাংবাদিক নেতারাও সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে গিয়ে বিষয়টি ‘সাংবাদিকদের জন্য অসম্মানজনক’ বলে ব্যাংক হিসাব তলব না করার অনুরোধ করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা যায়, বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে তারেক রহমান নিয়মিত অর্থ দেন যেন তারা টকশোতে সরকারের সমালোচনা করেন। এবং কথা বলার বিভিন্ন ইস্যু তাদেরকে ধরিয়ে দেন তারেক রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু ইস্যুকে সামনে আনার জন্য বিএনপিপন্থী কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে অর্থ এসেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। শুধু টকশো করার জন্য অর্থ নয় সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচারের জন্যও গণমাধ্যমকর্মীদেরকে ব্যবহার করেন তারেক। আর এই সমস্ত গণমাধ্যমকর্মীদের কেউ কেউ রয়েছেন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায়।

সম্প্রতি ৭৬তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরে যাওয়ার সময় বিমানের ফাঁকা আসনের ছবি কনক সরওয়ার তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের মধ্য থেকেই এই ছবি কনকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের কাজের জন্য বিএনপি এবং তারেক রহমানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পান তারা।

এখানে একটি প্রশ্ন চলেই আসে, বিএনপি-জামায়াতের এমন গুপ্তচররা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হন কী করে?

আরো জানা যায়, হিসাব বহির্ভূত আয় নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বিএনপিপন্থী সাংবাদিকরা। যাদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন যারা সরাসরি বিএনপি-জামায়াতের গুজব সেলের পক্ষে কাজ করেন। এদের গোপনে নেতৃত্ব দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলে জানায় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। এবং এর বিনিময়ে হিসাব বহির্ভূত বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

এছাড়া সাংবাদিকদের অনুদানের টাকা নিয়ে নয়-ছয় করার অভিযোগে আওয়ামীপন্থী বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নেতাও দুশিন্তায় রয়েছেন বলে জানা যায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি