শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Breaking » বিএনপিকে টিকিয়ে রাখা মির্জা ফখরুককে এজেন্ট মনে করে কর্মীরা



বিএনপিকে টিকিয়ে রাখা মির্জা ফখরুককে এজেন্ট মনে করে কর্মীরা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.09.2021

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে তিনবারের ক্ষমতাসীন দলটি। বিএনপির শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে অপরাধী। বিএনপির দ্বিতীয় প্রধান নেতা তারেক রহমান দশ বছরের বেশি সময় ধরে পলাতক অবস্থায় লন্ডনে অবস্থান করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই বিএনপির নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বর্তমানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীতে বিএনপির তেমন কোনও আলোচিত নেতা ছিলেন না। এমনকি প্রধান নেতাও ছিলেন না। ২০০১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তখন তিনি একজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপির যখন থেকে সংকটের সূচনা হয়, সেই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম পাদপ্রদীপে চলে আসেন। এরপর থেকে তিনি দিনে দিনে বিএনপির দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত সিনিয়র নেতাদের টপকে দলের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর মির্জা ফখরুল হয়ে ওঠেন বিএনপির অন্যতম মূল ব্যক্তি। যদিও দলের মধ্যে তাঁর অবস্থান খুব বেশি শক্ত নয়। দলের মধ্যে তিনি ততটা জনপ্রিয়ও নন। তিনি খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বলয়ের মধ্যে থেকে বিএনপিতে শুধুমাত্র একজন ম্যানেজারের মর্যাদাই পান। তারপরেও বিএনপির সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রে তিনি চলে এসেছেন বর্তমান সময়ে।

বিএনপির মধ্যেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে নানা ধরণের কানাঘুষা চালু আছে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের একজন এজেন্ট। বিএনপিকে দুর্বল করতে, বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে গিয়ে সরকারের বৈধতা দেওয়া ছিলো তাঁর এজেন্ডা, সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যে তিনি সরকারের পক্ষে দ্বাদশ নির্বাচনেও কাজ করবেন বলেও বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারা তাকে সন্দেহ করেন। তারপরেও ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যরিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মত বিএনপির হেভি-ওয়েট এবং প্রভাবশালী নেতাদের পিছনে ফেলে, তিনি বর্তমানে বিএনপির প্রকাশ্য নেতা।

বিএনপির অনেক নেতাই চেয়েছিলেন, আগামীর সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে, নির্বাচন বর্জন করে সরকারকে বিপদে ফেলতে। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগ্রহে আগামীতে তা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই বিএনপিতে অনেকে প্রশ্ন করে, ফখরুল কি সরকারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য, সরকারকে বৈধ্যতা দেওয়ার জন্য কাজ করে কি না? তবে এতো কিছুর পরও বিএনপি কিছু নেতা স্বীকার করেন যে, বিএনপির ঐক্যের প্রতীক হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির অনেক নেতাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সন্দেহ করেন। তাকে সন্দেহ করার একাধিক কারণও রয়েছে, যেমন এক সময় সরকার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে বহু মামলা দিয়েছিল এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘদিন তিনি কারাগারেও ছিলেন। পরবর্তীতে মির্জা ফখরুলের প্রতি সরকারের বদান্যতা চোখে পড়ার মতো। এরপর বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা হয়নি এবং তাঁর আগের মামলাগুলোর বিষয়েও ধীর নীতি গ্রহণ করা হয়। সরকারের অনেক মন্ত্রী এবং প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খবরও পাওয়া যায়। বর্তমানে সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দমন নীতির পরিবর্তে তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাঁর সঙ্গে সরকারের সখ্য গড়ে ওঠার এই বিষয়টা বিএনপির অনেক নেতাই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি