রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিএনপির একাধিক নেতাকে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.09.2021

নিউজ ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমার পর থেকে বিএনপির অধিকাংশ নেতা নিখোঁজ। তাদের কোন দলীয় কর্মকাণ্ডে পাওয়া যাচ্ছে না। দলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। বাড়িতে শুয়ে বসেই দিন কাটছে অনেকের। বিএনপির নেতারা বলছেন, লকডাউনের সময় ঘরে বসে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে ভেবে হতাশ হয়ে তারা আপাতত নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। সময়ই সব ঠিক করে দিবে। তবে বিএনপির অন্য একটি সূত্র বলছে, দলের মহাসচিবের সঙ্গে দূরত্বের কারণে, দলের কর্মসূচির সঙ্গে দ্বিমত থাকায় অনেক নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। দলের বড় একটি অংশ মহাসচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান দীর্ঘ দিন দলীয় কর্মসূচীতে অনুপস্থিত। নানা বিষয়েই তার সঙ্গে দলের মত পার্থক্য সেই ওয়ান ইলেভেন থেকে। তারপরও দলের মহাসচিব তার নিকটাত্মীয় হবার কারণে তিনি কিছুদিন সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সব কিছু থেকেই তিনি আড়ালে। জেনারেল মাহাবুবের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এসব রাজনীতি তার পছন্দ নয় জন্যই তিনি এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছেন।

কদিন আগ পর্যন্তও সরব ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে দলের অধিকাংশ কর্মসূচীতে তিনি অনুপস্থিত। দলের মধ্যে কান পাতলেই শোনা যায় যে মহাসচিবের সঙ্গে তার বিরোধ এখন প্রকাশ্য। দু’জনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন লকডাউনের সময় আন্দোলন করতে চেয়েছিলেন। এতে সায় দেননি ফখরুল। বিভিন্ন জনের কাছে তিনি মির্জা ফখরুলের অশালীন ভাষায় গালাগালিও করেছেন। সেই লকডাউনের সময় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফখরুল মহাসচিবের পদ ছাড়লেই তিনি সক্রিয় হবেন।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে সরব নন। দীর্ঘ ১ বছর তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবে এ সময়ে বিএনপির কোনো নেতাই তার খবর নেয়নি। এই ঘটনায় তিনি প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠরা। এরপর আবার ঘরে ঢুকেছেন। অভিমানেই তিনি নিজেকে আড়াল করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার সবগুলোরই বিপক্ষে ছিলেন। ড. কামালদের সঙ্গে ঐক্যকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেছিলেন ‘শয়তানের সঙ্গে ঐক্য’। নির্বাচনের ব্যাপারেও তার অবস্থান ছিল নেতিবাচক। তারপরও নির্বাচন করেন। সহিংসতায় আক্রান্ত হন। এখন তিনি নিখোঁজ। দলীয় কর্মকাণ্ডে থাকছেন না। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষুব্ধ গয়েশ্বর নিজেকে দুই বছর যাবৎ দূরে রেখেছেন। তবে শিগগিরই তিনি সচল হবেন বলে তার রাজনৈতিক শীষ্যরা জানিয়েছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি