রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



বিএনপির ঐক্যের আহ্বানে সাড়া নেই কেন?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.09.2021

সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য অনেক দিন ধরেই বিরোধীদলসমূহের মধ্যে ঐক্যের কথা বলে যাচ্ছে বিএনপির নেতারা। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায় দিনই সভা-সমাবেশে ঐক্যের ডাক দিলেও কার্যত এই বিষয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি বলে বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। বরং গত নির্বাচনে বিএনপির উদ্যোগে ড. কামাল হোসেনের সাথে করা জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টই অকার্যকর হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির নেতারা সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা বললেও সেই কথায় ভরসা পান না নিজেরাই। নেতারা বাইরে এক কথা বলেন, কিন্তু ভেতরে পরিস্থিতি আরেকরকম। ফলে বিগত এক দশক ধরে আন্দোলনের কথা বললেও সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন করতে পারেনি দলটি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় জেলে যাওয়ার পর থেকে দলের হাল ধরেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু তারেক রহমান নিজেও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করেন তারেক। ফলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই তার। বিএনপির ভেতর ঐক্য নেই, দলাদলি-কোন্দলে ভরা দলটি। এই অবস্থায় বিএনপির নেতারা ঐক্য প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের কাছে গেলে তারা কেউই আস্থা স্থাপন করতে পারছেন না। ফলে বিএনপির ডাকে সরকারবিরোধী ঐক্যে কোন সাড়া মিলছে না।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জয় লাভ করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। কিন্তু গত নির্বাচনে ব্যর্থতার পর বিএনপির সাথে ঐক্য করতে অনেক কিছু ভাবতে হচ্ছে, তাছাড়া সব দলের নিজস্ব কৌশল আছে। সেসবও হয়ত মিলছে না। মান্নার মতামত, ঐক্য করতে হলে বিএনপির উদ্যোগী হতে হবে। যেহেতু বিএনপি বড় দল, তাদের দায়িত্ব বেশি। বিএনপির নেতাদের মধ্যে বড় ভাই সুলভ আচরণও ঐক্যের পথে একটি বাধা বলে মনে করেন মান্না। তিনি বলেন, এখন বিএনপি এবং আমাদের সবার জন্য খারাপ সময়। তাই বিএনপির নেতাদের বড় ভাইগিরি ত্যাগ করে, সবাইকে নিয়ে একসাথে চলার মনোভাব তৈরি করতে হবে। নয়ত ঐক্য গড়ে উঠবে না।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জামায়াতের সাথে সম্পর্কের কারণে অনেক দল বিএনপির সাথে ঐক্য করতে চেয়েও পিছিয়ে যায়। এটা নিয়ে তারেক রহমানকে অনেক বার বলেছি। জামায়াত এবং বিভিন্ন মৌলবাদী দলের সাথে সম্পর্কের ফলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু কেউ কথা শোনে না। এতে করে আমরা দুর্বলই থেকে যাচ্ছি।

বিশ্লেষকরা জানান, গত এক যুগে সরকারের অভাবনীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ আন্দোলনে সমর্থন দেয়নি, ফলে সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। এই অবস্থায় আবারো জোট করলেই যে আন্দোলন দাঁড়াবে এমন সম্ভাবনা কম। এছাড়া তারেক রহমানের কারণে অন্য দলের নেতারা বিএনপির ওপর ভরসা পান না। যে দলের নেতাই বিদেশে পলাতক সেই দলের সাথে ঐক্য করে আসলে আন্দোলনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা দেখেন না বিরোধী দলের নেতারা। একজন জনপ্রিয় নেতা ছাড়া বিরোধী দলসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করা কঠিন। সব দলের নেতাদের এক করতে হলে যে গুণাবলি এবং নেতৃত্বের শক্তি থাকা দরকার সেটা তারেক রহমানের মধ্যে অনুপস্থিত বলেও অনেকে মনে করেন। ফলে বিএনপির সরকারবিরোধী ঐক্যের ডাক কার্যত কথার কথা হিসেবেই থেকে যাচ্ছে, বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি