সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১



মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে হবিগঞ্জ ছাত্রদলের ৩ বছর


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.09.2021

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণের পর পেরিয়ে গেছে তিন বছর। ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এরই মধ্যে বিয়েও করেছেন। কমিটির বেশিরভাগ নেতাকর্মীরই এখন আর ছাত্রত্ব নেই। কেউ কেউ ঢুকেছেন জেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে কিন্তু এখনো বিলুপ্ত করা হয়নি জেলা ছাত্রদলের কমিটি।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছেন জেলা ছাত্রদলের ত্যাগী নেতারা। এছাড়া সাংগঠনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। স্থানীয় ছাত্রদল কর্মীদের দাবি, সংগঠনকে গতিশীল করতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা উচিত।

জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর এমদাদুল হক ইমরানকে সভাপতি, রুবেল আহমেদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ও শাহ্ রাজিব আহমেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সংসদ। সেই কমিটি ঘোষণা করার দুই বছর পর ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৪৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর কেটে গেছে তিন বছর।

স্থানীয় ছাত্রদল কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, পাঁচ বছর হয়ে গেলেও কমিটিতে ঐক্য ছিল না। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সবাই ব্যস্ত ছিলেন গ্রুপিং নিয়ে। এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও পালিত হয়েছে আলাদাভাবে। তাছাড়া সভাপতি এমদাদুল হক ইমরান ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমেদ এখন বিবাহিত। কমিটির বাকি সদস্যদের বেশিরভাগের নেই ছাত্রত্ব। অনেকেই চলে গেছেন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মুখলেছুর রহমান ফয়স ও আরিফ রাব্বানি টিঠু এখন জেলা যুবদলের সদস্য। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল আজিজ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এনাম এখন স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক। এছাড়া আরো ৭ থেকে ৮ জন ছাত্রদলের নেতা জেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আগামী কমিটির সভাপতি প্রার্থী আবদুল আহাদ তুষার বলেন, জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির জন্য অনেক তরুণ নেতা অপেক্ষায় আছেন। নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের দাবি নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা কমিটি গঠন করা হোক।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আগামী কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জি. কে ঝলক বলেন, দুই বছরের কমিটি পাঁচ বছর হয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত এই কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত ভোটের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হোক।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ্ রাজিব আহমেদ বলেন, হবিগঞ্জসহ সারা দেশে আন্দোলনমুখী ছাত্রদল তৈরি করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সংসদ। এরই মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার প্রতিটি থানা, পৌর ও কলেজ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের কমিটিও গঠনের কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। এই সময়ে কমিটি না হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী হতাশ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিকভাবে জেলা ছাত্রদল অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। তাই দ্রুত জেলা কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, শুধু হবিগঞ্জ জেলা নয়, দেশের ১০টি জেলা ছাড়া বাকি সবগুলো জেলা কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। হয়তো আগামী ২ থেকে ৩ মাস পর আমরা জেলা কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি