রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



বিএনপিকে অনুদান দেয়া টাকার হিসাব ফাঁস করবে জামায়াত


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.09.2021

বিএনপি-জামায়াত

নিউজ ডেস্ক : বিগত দেড় দশক ধরেই জামায়াতকে নিয়ে বিতর্কের মুখে রয়েছে বিএনপি। এ কারণেই একাধিকবার গুঞ্জন উঠে জামায়াতকে ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি। তবে সেই গুঞ্জন এবার সত্যতে রূপ নিচ্ছে। বিএনপি ছাড়ছে জামায়াতে ইসলামকে। আর সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে জামায়াতের নীতি নির্ধারণী সভায় সিদ্ধান্ত হয় বিএনপির গোপন কিছু তথ্য ফাঁস করে দিবে তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত দেখতে চায় যে, বিএনপি ২০ দল বিলুপ্ত করে কিনা। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে কিনা। জামায়াত নিজে যেচে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করবে না। এ বৈঠকে জামায়াত এবং বিএনপির সম্পর্কের বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াত যে বিভিন্ন সময় বিএনপিকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সহায়তা করেছে সে সম্পর্কে নেতারা আলোচনা করেন।

বৈঠকসূত্রে প্রাপ্ত তথ্য খবরে জানা গেছে, সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলো থেকে বিএনপি নিয়মিত অর্থ পেত সংগঠন পরিচালনার জন্য। সেই অর্থ আসতো জামায়াতের মাধ্যমে। জামায়াত সৌদি আরবসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে বাংলাদেশে মুসলিম উম্মাহ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলমানদের হেফাজতের জন্য বিএনপিকে অর্থ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের প্রেক্ষিতেই ১৯৮৮ সাল থেকে জামায়াত সৌদি আরব, কাতারসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলো থেকে নিয়মিত অর্থ পেত। শুধুমাত্র মুসলিম দেশগুলো নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে বিএনপির সু-সম্পর্ক তৈরিতেও জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দিয়েছিল। সেটা জামায়াতের সুপারিশেই দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় জামায়াত পাকিস্তানকে জানিয়েছিল যে, পাকিস্তানি ভাবধারা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে এবং পাকিস্তানি স্বার্থ রক্ষা করতে পারে একমাত্র বিএনপি। জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আর্থিক কারণেই মূলত বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে রাজি নয়। যদি বিএনপি জামায়াতকে ছাড়ে তাহলে বিএনপির যে মোটা অঙ্কের অর্থের উৎস, সেটা বন্ধ হয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নানা দু:অবস্থা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের সংকটের কারণে এমনিতেই বিএনপিতে বৈদেশিক অর্থের উৎস কমে এসেছে। আওয়ামী লীগের যে পরিবর্তিত নীতি এবং যে অবস্থান সে অবস্থানে মুসলিম উম্মাহ সন্তুষ্ট। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের মুসলমান এবং ইসলামী স্বার্থ রক্ষার জন্য আলাদা কোন দলকে পৃষ্ঠপোষকতা করার দরকার নেই। বরং আওয়ামী লীগই মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভালো কাজ করছে।

বিশেষ করে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ভালো অবস্থানে। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবে যে সম্মিলিত সেনা সুরক্ষা দল তৈরি করা হয়েছে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমেই বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে এখন মুসলিম দেশগুলো বিএনপি এবং জামায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যে কারণে এই দুটি দলই এখন আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। জামায়াতের মাধ্যমে বিএনপি যে সমস্ত তথ্য ও অর্থ পেয়েছে। সেই সবের যাবতীয় তথ্য জামায়াতের কাছে আছে। জামায়াতের অনেকেই বলছেন, বিএনপি যদি এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, জামায়াতকে ছাড়ার জন্য যদি চাপ সৃষ্টি করে। তাহলে এই তথ্যগুলো তারা প্রকাশ্যে আনবে। তাতে বিএনপির রাজনীতি বিব্রত হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি