রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



জামায়াতের অর্থ নিজের করার কঠিন পরিকল্পনা তারেকের


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.09.2021

নিউজ ডেস্ক : বর্তমান বাংলাদেশে জামায়াতের কার্যক্রম যখন চোখে পড়ছে না, ঠিক তখন লন্ডনে জামায়াত-বিএনপি একীভূত করণ বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। নানা জটিলতায় আক্রান্ত জামায়াত ইসলাম সংগঠন বিলোপ করে নতুন মোড়কে আত্মপ্রকাশ করতে চাচ্ছে। এ নিয়ে জামায়াতে মতবিরোধ চরমে। জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে নেই। আরও কয়েকজন নেতা একাত্তরের প্রশ্নে সরে যেতে পারেন বলে জামায়াতের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু জামায়াতের মজলিশে সুরার সিংহভাগ সদস্যের মত জামায়াতকে বিলুপ্ত করে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। কিন্তু লন্ডনে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। এইসব বৈঠকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তারেক রহমান চান জামায়াত পৃথক সংগঠন না হয়ে বিএনপির সঙ্গেই একীভূত হয়ে যাক। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো, যে দেশ-বিদেশে জামায়াতের বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ রয়েছে। জামায়াতের অর্থ দাতার সংখ্যা বিএনপি বা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি। তারেক রহমান এই বিষয়ে আগ্রহী হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের সঙ্গে দুইদফা বৈঠক করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তারেক প্রস্তাব দিয়েছেন, জামায়াতের যে সদস্য আছে, তা যেন বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। চার নীতিমালার ভিত্তিতে এই একীভূত হবার প্রস্তাব দিয়েছেন তারেক রহমান; এগুলো হলো:

প্রথমত, জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা, যারা পরিচিত মুখ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আছেন। এরা একীভূত হবেন না, তারা রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন। অথবা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মত ধীরে ধীরে দল থেকে সরে যাবেন। তারা যদি চায় নিজেরা দল করবেন, সেটা তারা করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, মাঠ পর্যায়ের যে নেতারা আছেন, তারা বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবেন। প্রত্যেকটা এলাকায়ই জামায়াতের ভোটব্যাংক রয়েছে এবং নূন্যতম যাই হোক, একনিষ্ঠ কর্মী এবং সমর্থক রয়েছে। তারা দলের প্রতি নিবেদিত। যারা সার্বক্ষনিকভাবে দলের জন্য কাজ করেন।

তৃতীয়ত, জামায়াত- বিএনপির মধ্যে আদর্শগত ঐক্য রয়েছে। দুটি দলই ইসলামিক মূল্যবোধ এবং ইসলামী চিন্তা চেতনাকে ধারণ করতে চায়। বিএনপির যে গণতান্ত্রিক আবরণ, সে আবরণটাকেই জামায়াত যদি গ্রহণ করে তাহলে বিএনপি-জামায়াত মিলে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

চতুর্থত, মনে করা হচ্ছে দুই দলই একই লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। সেটা হলো ইসলাম ভিত্তিক গণতন্ত্র।

এই প্রেক্ষাপটে যে দুই দফা বৈঠক হয়েছে, সে বৈঠকে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা নীতিগতভাবে একীভূত হতে রাজী হয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হলো যারা বাংলাদেশে জামায়াতের নেতৃত্বে রয়েছেন, তারা এর পক্ষপাতী নন। তারা মনে করেন, বিএনপিতে বহু বিভক্তি আছে এবং বিএনপির রাজনৈতিক ইমেজও ভালো নয়। বিশেষ করে, তারেক রহমানের যে ইমেজ তা নিয়ে বিএনপি বেশিদূর আগাতে পারবে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি