রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



জোটে ভাঙন, একা হয়ে যাচ্ছে বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.10.2021

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট কিংবা খেলাফত মজলিস, একে একে ছেড়ে গেছে সবাই। বাকি আছে শুধু জামায়াতে ইসলামী। অচিরে এ দলটিও বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করবে বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের। তাদের ভাষ্য, ২২ বছর আগে বিএনপির নেতৃত্বে যে চারটি দলের সমন্বয়ে জোটবদ্ধ রাজনীতির শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষের পথে। জোট ত্যাগে বাকি থাকা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল জামায়াতও যে কোন সময় খালেদা-তারেকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করবে। আর কেনই বা করবে না, জোটে তাদের গুরুত্বই বা কি? অবহেলিত থাকার চেয়ে তাই তারা শিগগিরই নিজেদের গুটিয়ে নেবে। শুরু করবে নতুন করে পথচলা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে জোটত্যাগ করেন এরশাদ। ওই সময় জাপার মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি অংশ থেকে যায় জোটে। এই জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ক্ষমতায় এসে কেবল জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করে তারা।

কিন্তু কিছুতেই যেন নিজেদের শক্তিশালী ভাবতে পারছিলো না বিএনপি। তাই পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোটের বর্ধিত ‘১৮ দলীয় জোট’এর ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। ওই জোটে প্রতিষ্ঠাকালীন শরিক জামায়াত, খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি দল অংশ নেয়। সর্বশেষ ১ অক্টোবর (শুক্রবার) ২২ বছরের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে খেলাফত মজলিস।

এ বিষয়ে বাংলানিউজ ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের। তাদের মন্তব্য, যুদ্ধাপরাধীদের দলসহ জামায়াতকে নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে বলেও জরিপে জানা গেছে। পাশাপাশি তাদের সাংগঠনিক তৎপরতাও এখন নেই বললেই চলে। তাই সব মিলিয়ে তাদের কপালে কি অপেক্ষা করছে তা খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানই বলতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের পক্ষে ও বিপক্ষে দু’টো গ্রুপ বিএনপিতে এখনও বিদ্যমান। যাদের এক পক্ষ বলছে, জামায়াত বিএনপির জন্য বড় একটি ব্যাকআপ। কারণ, তাদের বড় অর্থায়নেই বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে। অপর মহলটির দাবি, জামায়াত না থাকলেও বিএনপি চলবে। কারণ, কারও জন্য কোন কিছু থেমে থাকে না। আর বিতর্কিত এই রাজনৈতিক দলটির জন্য তো না-ই।

জামায়াত জোট ছাড়ছে কিংবা তারা জোট থেকে বাদ পড়ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদককে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, এই বিষয়ে এখনই কোন মন্তব্য করা ঠিক নয়। তাছাড়া বিএনপির নীতি নির্ধারণী পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য আমরা পাইনি। তবে হ্যাঁ, এ কথা মিথ্যে নয় যে, দু’দলের মধ্যে বহু বিষয়ে মতের ভিন্নতা রয়েছে। ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। থাকবেও। তাই বলে জোট থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। কিংবা বের করে দিতে হবে! এটা কোন ধরণের কথা!

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধৈর্য্যের ফল সুমিষ্ট হয়, এই কথাটা ভুলে গেলে চলবে না। তাই সবাইকে বলবো, জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির কি মনোভাব, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। ইতোমধ্যে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। তারেক রহমান জামায়ত সঙ্গ ত্যাগের পক্ষে রয়েছেন। তিনি ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) বিষয়টি জানিয়েছেন। এখন দলীয় নেত্রী হ্যাঁ/না সিদ্ধান্ত দিলেই আপনারা বিস্তারিত জানতে পারবেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি