রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতেই রিজভীকে তারেকের ফোন, কারণ কী?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
06.10.2021

রিজভীকে তারেকের ফোন

নিউজ ডেস্ক: এক-দু’দিন নয়, দীর্ঘ ২০৪ দিন পর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে অফিস করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আর খবরটি এক নেতার মাধ্যমে লন্ডনে পৌঁছতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন তারেক। পরে ওই নেতাকে তিনি বলেন, এতো বড় সাহস কোত্থেকে পায় রিজভী? আমাকে না জানিয়ে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যই বা কি তার? অতি চালাকের গলায় দড়ি কথাটি সম্ভবত তিনি ভুলে গেছেন। সমস্যা নেই। তিনি এর শাস্তি পাবেন। এই কথা বলে রিজভীকে ফোন দেন তারেক। করেন অকথ্য ভাষায় গালাগালও। তবে প্রত্যুত্তরে কিছু না বলে বরং নিশ্চুপ ছিলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, গত ১৬ মার্চ সর্বশেষ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরে করোনা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হওয়ার পর তারেক রহমান বলেন, তাকে না জানিয়ে যেন তিনি কোথাও না যান। সে সময় তিনি আজ্ঞাবহের মতো বলেন, ঠিক আছে। কিন্তু সেই কথা না রেখেই তিনি ৬ অক্টোবর (বুধবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসেন দলীয় কার্যালয়ে। এসময় দলের নেতাকর্মীরা সেখানে ছুটে যান। যাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলামসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাতের এক ফাঁকে সেখান থেকে কে বা কারা লন্ডনে তারেক রহমানকে ফোনে বিষয়টি জানান। খবরটি শুনে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রিজভীকে ফোন দিয়ে ‘যাচ্ছেতাই’ ভাষায় গালিগালাজ করেন।

সে সময় রিজভীর পাশে থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা নিউজ ব্যাংককে জানান, তারেক রহমান খুব কড়া ভাষায় রিজভীর সঙ্গে কথা বলেছেন। যেটা তিনি এর আগে বলেছেন কিনা সন্দেহ। সঙ্গে এও বলেছেন, তাকে না জানিয়ে অফিসে আসার ফল রিজভীকে ভোগ করতেই হবে। এবং সেটি অচিরেই। এটা শুনে রিজভী নিরুত্তর ছিলেন। পুরো কথোপকথনে হ্যাঁ/না ছাড়া কিছুই বলেননি। পরে তিনি মুখ ভার করে কার্যালয় ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। সব কথা মিডিয়াকে বলতে হবে তার তো কোন মানে নেই। কিছু কথা থাকে একান্তই গোপন। তারেক আর আমার কথাগুলোও অনেকটা সে রকম। তাই সেগুলো জনসম্মুখে না বলাই ভালো। সময় হলে সবই সবাই জানতে পারবে। ততক্ষণ ধৈর্য্য ধরুন। জানেন তো, ধৈর্য্যের ফল সুমিষ্ট হয়।

‘শাক দিয়ে তো আর মাছ ঢাকা যায় না’ উল্লেখ করে দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, রিজভীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে, এটা দিনের আলোর মতোই সত্য। কিন্তু তিনি তা মিডিয়াকে না বলে চেষ্টা করছেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার। সেটা কি এতোই সহজ? তিনি নিজেকে যতই চালাক ভাবুন না কেন, জনগণ তো আর বোকা নয়। তারা সবই জানে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি