রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপি এবং তাদের ঐতিহাসিক ব্যর্থ আন্দোলন



বিএনপি এবং তাদের ঐতিহাসিক ব্যর্থ আন্দোলন


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.10.2021

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি যতবার বৃহত্তর এবং সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ততবারই সেই আন্দোলন একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। বিএনপির এই আন্দোলন আন্দোলন খেলা জনগণকে একধরণের কৌতুক দিয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি বিভিন্ন সময় তীব্র আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনের ব্যর্থতা বর্তমানে বিএনপির নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে।

এক সময় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল ঘোষণা করেছিল। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের রায় আদালতে সংবিধান সংশোধন করে দেয়া হয় এবং তত্বাবধায়ক সরকার বিধান সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়। এর মাধ্যমে ৭২ এর সংবিধান ধারায় নির্বাচনের ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনা হয়। বিএনপি প্রতিবাদ করে এবং তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি তামাশায় পরিণত হয়েছিল।

২০১৪ নির্বাচন প্রতিরোধের আন্দোলন: ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল এবং বিএনপি বলেছিল যে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশের মাটিতে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। ঐ নির্বাচন শুধু বিএনপি বর্জনই করেনি, বরং প্রতিরোধ করার জন্য জ্বালাও-পোড়াও-সহ এক সন্ত্রাসী তাণ্ডব তৈরি করেছিল। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও সেই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার ৫ বছর দেশ নির্বিঘ্নে পরিচালনা করে।

২০১৫ সালে বিএনপি আমরণ অবরোধ কর্মসূচী শুরু করে। বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, যতক্ষণ সরকারের পতন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চলবে। বেগম জিয়া তার বাড়ি ছেড়ে তার গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এসে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সারা দেশবাসীকে অবরোধ পালনের আহ্বান জানান। কিন্তু বিএনপির সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি দেশবাসী। বিএনপির এই লাগারতার অবরোধ কর্মসূচী শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং বিএনপি নিজেরাই সেই অবরোধ কর্মসূচী থেকে সরে এসেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি এই অবরোধ কর্মসূচী প্রত্যাহার করে। জনগণের প্রতিরোধ এবং প্রত্যাখ্যানের মুখে ঐ অবরোধ কর্মসূচী বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

বেগম খালেদা জিয়াকে যখন তার গুলশানের ক্যান্টনমেন্টের মইনুল হোসেন রোডের বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হয় তখন বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বেগম খালেদা জিয়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। তবে সেই আন্দোলনও তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত একটি কৌতুকে পরিণত হয়েছে।

বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে, বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি ১০ দিনও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে পারেনি। যে টুকু আন্দোলন করেছিল সেটিও ছিল এক ধরণের প্রহসন। বেগম খালেদা জিয়াকে পরে মুচলেকা দিয়ে কারাগার থেকে বের করে আনেন তার পরিবারের সদস্যরা। ২৫ মাস কারাবরণের সময় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ২৫ দিনও খালেদা জিয়ার জন্য রাজপথে নামতে পারেনি।

কাজেই বিএনপি যখন আন্দোলনের ঘোষণা দেয়, মানুষ কৌতূহল হয়। এবার এই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি কি করবে এইবার। বিএনপির নেতৃবৃন্দই জানেন যে, আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়নের শক্তি এবং নেতৃত্ব তাদের নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি