বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১



অন্ধকার জগতের এক রাজকুমারের গল্প


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.10.2021

এক সময় এক ক্ষমতালোভী রাজা ছিলেন। রানী ছিলেন চরিত্রহীন। আর রাজপুত্র- চৌর্য উন্মাদ গ্রস্ত। রাজার মৃত্যুর পর রানী রাজ্য পরিচালনার ভার নিয়েই শুরু করেন লুটতরাজ। মায়ের আর্শীবাদে রাজপুত্র অপরাধ আর দুর্নীতিকে দিয়েছিলেন শিল্পরূপ। বনে গিয়েছিলেন অন্ধকার অপরাধ জগতের রাজকুমার। বলছি একজন তারেক রহমানের কথা…

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করা জিয়াউর রহমান ক্ষমতার লোভে জাতির পিতাকে হত্যার নীলনকশা কষেন। পর্দার আড়ালে থেকে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন। হয়ে ওঠেন সামরিক স্বৈরশাসক। এই যাত্রায় স্ত্রী হিসেবে জিয়ার পাশে ছিলেন পাকিস্তানী সেনাদের মনোরঞ্জনকারী খালেদা। তাদের ঘরেই জন্ম অন্ধকার অপরাধ জগতের রাজকুমার- তারেক রহমানের।

জঙ্গিবাদকে উস্কে দেওয়া থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু নির্যাতন, অস্ত্র চোরাচালান, মাদক কারবার, আর দুর্নীতিকে দিয়েছিলেন বৈধতা। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে গলা টিপে মারতে সব পন্থাই অবলম্বন করেছিলেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান।

‘ক্ষমতার মোহে হিতাহিত জ্ঞান-শুন্য হয়ে পড়েন তারেক। তার মায়ের নেতৃত্বে ২০০১ সালে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জোট করে বাংলাদেশে সরকার গঠন করে। পরবর্তী পাঁচ বছর দেশবাসীর জন্য ছিল এক ভয়াবহ আতঙ্কের সময়। বিরোধী নেতার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা। ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলা। পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশিক্ষণের সুবিধা করে দেওয়া। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা। এর সবকিছুর পেছনেই ছিল তারেকের কালো হাত।

আর তার আলোচিত ‘হাওয়া ভবন’ ছিল ছায়া সরকার। সেখানে বসেই সরকার পরিচালনা করতেন তারেক। যে কোনো কাজ করতে হলেই তাকে পৌঁছে দিতে হতো ১০% কমিশন। এমনকি বিএনপি নেতারা মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন হাওয়া ভবনে টাকা দিয়ে।

এই দুর্নীতির রাজকুমারের গল্প দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তার হিংসাত্মক কৌশলে ভীত ছিলেন। তাকে মার্কিন স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা ‘ক্লেপটোমানিয়াক সরকারের ছবি’ এবং ‘মারাত্মক দুর্নীতির জন্য দোষী’ হিসেবে ট্যাগ করে হুইসেল ব্লোয়িং উইকিলিক্সে প্রকাশ করেছিল তারেকের দুর্নীতির পাহাড়।

তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেছিলেন- ‘তারেক রহমান দেশে ঘুষ, আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি করেছেন।’ এই কূটনীতিক আরও সুপারিশ করেছিলেন, নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে তারেককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেদ্ধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে। এখনও তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের শীর্ষ কর্তা এবং বোম্বে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে এই রাজকুমারের বৈঠক জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাকে আরও শক্তিশালী করে।

দীর্ঘ সময় পর তার অন্ধকার জগতের সুটকেস খুলতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে মুচলেকা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমান লন্ডনে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রমাণিত মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বেশ কয়েকটি মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয় বিজ্ঞ আদালতে।

তবুও থেমে নেই এই দুর্নীতির রাজকুমার। পলাতক জীবনেও ভয়ঙ্কর তিনি। মদ, নারী নিয়ে ফূর্তি করেন নিয়মিত। ডলার ওড়ান ক্যাসিনোতে। বিপুল অর্থ ব্যয় করে তার সাইবার টিম নিয়মিত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের নকশা এঁকে যাচ্ছেন এখনও।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি