শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১



তারেককে কত টাকায় খুশি করলো তারা?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.10.2021

তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক: ছাত্রত্ব নেই বহু বছর। বিয়ে-শাদি করে থাকছেন বিভিন্ন জেলায় কিংবা প্রবাসে। আবার কেউবা আছেন এলাকায়, কিন্তু রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। আবার এমনও দেখা গেছে, ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ীরাই ঠাঁই পেয়েছেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলে। সম্প্রতি কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ত্যাগী নেতাকর্মীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রকাশ্যে বলছেন, এটা কি করে সম্ভব? যারা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। এমনকি থাকছেন বিদেশে কিংবা ভিন্ন জেলায়, আবার কেউ কেউ বিয়ে করে একাধিক সন্তানের বাবাও বনে গেছেন, তারা কিভাবে জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে ঠাঁই পান? তাছাড়া আরেকটা আশ্চর্য বিষয় হলো, ৩৩১ জনের নাম প্রস্তাব করে পাঠানো কমিটিতে কিভাবে ৪৮৭ জনের নাম অনুমোদন দেয়া হয়? এখানেই তো মহাঘাপলা। তারেক রহমানসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘মোটা অংকের টাকায়’ খুশি করা ব্যতীত এটা কখনোই সম্ভব নয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে পাঁচ নেতার কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার। কিন্তু করোনাসহ নানা কারণে কমিটি গঠনের ওই কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে। লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অর্থের যোগান দিতে তারেক রহমান মাস ছয়েক আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে বলে দ্রুত বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করতে। সঙ্গে তিনি এও বলে দেন, যে বেশি টাকা দেবে, তাকেই পদ দেয়া হবে কমিটিতে।

ব্যস, এরপর পদপ্রত্যাশীরা মৌমাছির মতো ভিড় করতে থাকেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে। ‘কাউকে নিরাশ না করে’ তারা সবার থেকে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। যার বৃহৎ অংশ হুন্ডির মাধ্যমে লন্ডনে পাঠিয়ে দেন তারেকের কাছে। সে কারণে জেলা থেকে প্রস্তাবিত ৩৩১ সদস্যের কমিটিতে ঠাঁই হয় ৪৮৭ জনের। জায়গা হয় মাদক ব্যবসায়ী, ধর্ষক, ছাত্রত্বের পাঠ চুকিয়ে চাকরি সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রবাসে অবস্থানকালীন একাধিক জনের।

এ নিয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান বলেন, আমরা ৩৩১ জনের কমিটির প্রস্তাব পাঠিয়েছি। গত মাসে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন হয়ে আসার পর দেখি মোট সদস্য সংখ্যা ৪৮৭। তাদের মধ্যে অনেককেই আমরা চিনি না। অনেকে আবার কখনোই ছাত্রদলে সক্রিয় ছিলেন না। তাদের মধ্যে এমন লোকজনও আছেন যারা বছরের পর বছর ঢাকা কিংবা বিদেশে থাকেন, ছাত্র নন। তাদের নাম কি করে কমিটিতে এলো তা কেন্দ্রীয় নেতারাই ভালো বলতে পারবেন।

বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। কিন্তু টাকা দেয়ায় সাইমন আহম্মেদ কালু পদ পেয়েছেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির। একইভাবে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনকে বরিশাল জেলার সহ-সভাপতি এবং জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার আমেরিকাপ্রবাসী জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন সহ-সাধারণ সম্পাদকের পদ। আবার চাকরির সুবাদে মালয়েশিয়ায় থাকা হিজলা উপজেলার আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ। একইভাবে সিংগাপুরপ্রবাসী গাজী কামাল অধিষ্ঠিত হয়েছেন সহ-সাধারণ সম্পাদকের পদে। এর বাইরেও পদপদবি পাওয়া অন্তত ৩/৪ ডজন আছেন, যারা সংসার এবং চাকরির সুবাদে বহু বছর ধরে রাজধানীর বাসিন্দা।

বিষয়টি বিব্রতকর উল্লেখ করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু বলেন, কমিটি ঘোষণার পর খুব বিস্মিত-বিব্রত হয়েছি। কারণ, কমিটি অনুমোদন দেয়ার আগে জেলা নেতাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা করা হয়নি। পাশাপাশি এমন অনেককে কমিটিতে রাখা হয়েছে যারা নানানভাবে বিতর্কিত। এমনকি মাদক ব্যবসা আর ধর্ষণে অভিযুক্তরাও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। যা সত্যিই খুব লজ্জাজনক।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ একাধিক ছাত্রদল নেতা বলেন, যতদূর জানি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাপ্পি এই কমিটি গঠনের দায়িত্বে ছিলেন। তিনিই টাকার বিনিময়ে তারেক রহমানকে ম্যানেজ করে সবকিছু ‘নয়-ছয়’ করেছেন। শুনেছি পদ প্রতি ১০/১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরাদরি হয়েছে। যা পদপ্রাপ্তরা পরবর্তীতে শিকারও করেছেন।

তবে কোনভাবেই বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঙ্গে। এমনকি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাপ্পির মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।

দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ-য-ব-র-ল কমিটি গঠনই বলে দেয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ অবস্থা কেমন? কি চলছে ভেতরে? আর কিভাবেই বা তারেক লন্ডনে বসে গাড়ি-বাড়ির মাধ্যমে চোখ ধাঁধানো আয়েশি জীবন যাপন করছেন। যাচ্ছেন ক্যাসিনো-নাইটক্লাবে। পাশাপাশি মেতে থাকছেন একাধিক নারীসঙ্গে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি