শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » তারেক কী জামায়াতকে ছাড়ার ‘ঝুঁকি’ নেবেন?



তারেক কী জামায়াতকে ছাড়ার ‘ঝুঁকি’ নেবেন?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.10.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির সাথে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের জোট এবং আদর্শিক সঙ্গী জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব সম্প্রতি বেশ বেড়েছে। জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে কিছুদিন যাবত বিএনপির ওপর চাপও বাড়ছে। সর্বশেষ জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। কিন্তু কি করবেন তারেক রহমান? পরীক্ষিত বন্ধু জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের রাজনৈতিক ‘ঝুঁকি’ নেবেন? নাকি মাঠের ‘সংগঠিত শক্তি’ জামায়াতের সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নেবেন?

জানা গেছে, পরপর দুটি সংসদ নির্বাচনে হেরে বিএনপি ব্যাকফুটে। দলের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সরকারের কৃপায় সাজা স্থগিতের সুযোগে এখন গুলশানের বাসভবনে থাকলেও আগের মত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারছেন না খালেদা জিয়া। বিএনপির সবকিছুই এখন সামলাচ্ছেন তারেক রহমান। তবে লন্ডন থেকে সব কিছু স্বাভাবিকভাবে সামলাতেও পারছেন না তিনি। দলের ভেতরে নানা মত। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং রাজনীতির ময়দানে বিএনপির কোন ভবিষ্যৎ না দেখতে পেয়ে অনেক সিনিয়র নেতা দল ত্যাগ করেছেন, কেউবা অবসর নিয়েছেন। অনেক তরুণ নেতা হতাশ হয়ে বিদেশে চলে গেছেন। এমন অবস্থায় দল টিকিয়ে রাখতে গত কিছুদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আন্দোলনের কথা বলে তৃণমূলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন। এর ধারাবাহিকতায় সারা দেশের নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সাথেও হচ্ছে বৈঠক। আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনা ঠিক করতে এসব বৈঠক হচ্ছে বলে বিএনপির নেতারা জানান।

সূত্র জানায়, কিছুদিন ধরে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে বিএনপিতে আলোচনা চলছে। পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠকেও বিষয়টি ওঠে এসেছে। ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্ব চায় না বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক। তাই ঘোষণা দিয়ে বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়তে হবে বিএনপিকে — এমন দাবি জানিয়ে বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্ব চায় না বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক। তাই দেশে-বিদেশে বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সমর্থন পেতে ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।’

কিন্তু তারেক রহমান কি ভাবছেন? বৈঠকে উপস্থিত পেশাজীবী সংগঠনের নেতা প্রকৌশলী মাহবুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোন কথা বলেন নি তারেক রহমান। তবে আমাদের মতামত শুনেছেন। সবার সাথে বৈঠকের পর এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে যদি সবার দাবি উপেক্ষা করে জামায়াতের সাথে পথ চলতে চান তবে তারেক রহমান আবারও ভুল করবেন বলে মনে করেন এই নেতা।

লন্ডন বিএনপি সূত্র জানায়, দলের ভেতরে বাইরে দাবি উঠলেও তারেক ভাবছেন মাঠের কথা। এমনিতেই বিএনপির পঙ্গু দশা। সামনে যদি আন্দোলন করতে হয় তবে সংগঠিত শক্তির অভাব আছে দলে। ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে তারেক আশাবাদী নন। দলের নেতারাও টানা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আস্থাশীল নন। ফলে জামায়াতের মত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী দলের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করলে আন্দোলনের আগেই বিশাল শক্তি হারানোর ভয়ও আছে তারেক রহমানের মনে। সেইজন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করবেন তিনি। আবার জামায়াতকে ছাড়লেই যে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে বিএনপি সেটাও নিশ্চিত নয়। তাই জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের বিষয়ে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত তারেক নেবেন নে বলেই জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যতই দাবি উঠুক বিএনপির পক্ষে জামায়াতের হাত ছাড়া কঠিন। এককভাবে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা নেই বিএনপির। এদিকে জামায়াত ছাড়লেও দেশের বাইরে তারেক রহমানের ভাবমূর্তির উন্নতি হয়নি। ফলে জামায়াত ছাড়লেই বিএনপি বাইরের সমর্থন পাবে না। সেটা বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও জানেন। সুতরাং বাস্তবতা হচ্ছে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা এখনও তারেক রহমানের পক্ষে বেশ কঠিন, দলের ভেতরে-বাইরে যতই চাপ বাড়ুক না কেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি