শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১



বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নেই: হানিফ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.10.2021

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি আজ স্বপ্ন দেখে আন্দোলন করে ক্ষমতায় আসার। বিএনপির সেই সামর্থ্য নেই। কারণ, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। অতীতে লুটপাট-সন্ত্রাস ছাড়া তাদের কোনো অর্জন নেই। এ কারণে জনগণ তাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় চায় না। তাই বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাংসদ মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রাম উত্তর–দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ।

হানিফ বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন ভালো মানুষ পাওয়া কঠিন, ওই সময় কয়েকজন ভালো মানুষের মধ্যে একজন ছিলেন আতাউর রহমান খান কায়সার।

দেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে হানিফ বলেন, একসময় রেমিট্যান্স ছিল ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার, এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। টেকসই উন্নয়ন ঘটছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে সরকারের উন্নয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন তিনি। টিভি খুললেই বিএনপির এই নেতার শুধু লাগাতার মিথ্যাচার।

হানিফ বলেন, কোনো রেকর্ডে খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৫ আগস্ট ছিল না। জাতীয় শোক দিবসকে ব্যঙ্গ–বিদ্রুপ করার জন্য খালেদা জিয়া এটি করেছেন।

তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ২০১৩-১৫ সালে গাড়িতে পেট্রল দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে খালেদা ও তারেক জিয়ার নির্দেশে। তাঁদের সন্ত্রাসের কাছে মির্জা ফখরুল অসহায় হয়ে রয়েছেন। সন্ত্রাসী নেতার তাবেদারী না করে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বীকার করার জন্য মির্জা ফখরুলের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, ‘কায়সার ভাই মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭৫–পরবর্তী সময় তাঁর অবদান অপরিসীম। কখনো অহঙ্কার দেখিনি। কর্মীর প্রতি ভালোবাসা ছিল অগাধ। আজ নেতা হলে কেউ কেউ সামান্য সৌজন্যবোধ ভুলে যাই, সুন্দরী বালিকা এলে দাঁত কেলিয়ে সেলফি তুলি, কর্মীকে সালাম দিই না—এ বিপর্যয় কায়সার ভাইকে কখনো স্পর্শ করেনি।’ তিনি আরও বলেন, তিনি জিয়া বা এরশাদের মন্ত্রী হতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেননি।

দলের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক সাংসদ ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শে বাবা কাজ করেছেন, তা থেকে যেন বিচ্যুত না হই। এমন কোনো কাজ যেন না করি, যার জন্যে নেত্রী, বাবা ও অগ্রজদের সম্মানহানি ঘটে। দল ও জনগণের নিস্বার্থ সেবা করে যেতে চাই।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আতাউর রহমান খান কায়সারের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ২০১০ সালে পর্দার অন্তরালে ঐক্য প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তিনি। তিনি চাইলে দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হতে পারতেন। রাষ্ট্রের কাজ করেছেন। নিজের জন্য কোনো ব্যবসা পারমিট নেননি। উচ্চ রাজনৈতিক দর্শন ওনার ছিল। আমাদের দুর্ভাগ্য, পুলিন দে, আতাউর রহমান খান কায়সার যে দল গঠন, প্রতিষ্ঠান গঠনের রাজনীতি করতেন, তা অনুসরণের সুযোগ পাইনি।’

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দলের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান, সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি