বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১



বিএনপির অঘোষিত চেয়ারম্যান খন্দকার মোশাররফ হোসেন


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.10.2021

খন্দকার মোশাররফ হোসেন

নিউজ ডেস্ক : ইদানিং দলের প্রয়োজনীয় কোনো সিদ্ধান্তে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে খুঁজে পাওয়া যায় না। দলের সাধারণ সভা কিংবা বৈঠকেও তিনি উপস্থিত হচ্ছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বিষয়টিকে ইতিবাচক দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলের নাক না গলানোর কারণে দলের অবস্থান সুষ্ঠু হচ্ছে। দলের ভেতর স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে।’ তিনি জানালেন ‘বেগম জিয়া দলীয় কর্মকাণ্ড একেবারেই দেখছেন না, তারেক রহমানও এখন খুব একটা ফোন করেন না। অঘোষিতভাবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনই এখন বিএনপির চেয়ারম্যান।’ তার মতে ‘মির্জা ফখরুলের অনুপস্থিতিতে রুহুল কবির রিজভীই এখন বিএনপির অঘোষিত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। মোশাররফ-রিজভী জুটিতে ভালোই চলছে বিএনপি।’

বিএনপি শুধু এই নেতা নন, তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মী এই সময়ে দলের মহাসচিবের অনুপস্থিতিকে আর্শীবাদ হিসেবে দেখছেন। বিএনপির কর্মীরা বলছেন, মির্জা ফখরুল অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। কিন্তু তিনি নিজে কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। যেকোনও সিদ্ধান্তের জন্য তিনি তাকিয়ে থাকেন লন্ডনের দিকে। তারেক রহমানকে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুই করেন না। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন ‘দলের সিনিয়র নেতাদের সাথেও তার সম্পর্ক ভালো না। ফলে দল স্থবির হয়ে ছিল।’

বিএনপির একাধিক সূত্র বলেন, ড. খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্ক খুব একটা ভালো না। তারেক রহমান মোশাররফকে কোনও নির্দেশও দিতে পারেন না। ড. মোশাররফ বিএনপির প্রবীণতমদের একজন। দলের বেশিরভাগের কাছেই তিনি শ্রদ্ধেয়। এ কারণেই তিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে পারেন।

এক সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ছিলেন বিএনপিতে হাস্যরসের বিষয়। তাকে নিয়ে দলে নানারকম কৌতুক হতো। কিন্তু ক্রমশ তিনি দলে ত্যাগী, আদর্শবান নেতা হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। দলে যারা আন্দোলনকামী, তাদের পছন্দের তালিকায় এখন রিজভীর নাম অনেক উপরে। রিজভীর বক্তব্য বিএনপির নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে বলেই জানিয়েছেন দলের একাধিক তৃণমূলের নেতা। বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন ‘রিজভীর আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও বিবৃতি আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। অসুস্থ হয়েও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।’

তাই এখন নীরবে বিএনপির রাজনীতি থেকে জিয়া পরিবার অপসৃত হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন পর লন্ডনের কর্তৃত্ব এবং খালেদার নিয়ন্ত্রণ মুক্তভাবে বিএনপি চলছে। এর ফলে বিএনপিতে নেতৃত্ব বদলের দাবি আরো জোরদার হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি