বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন থেকে সরলো বিএনপি



খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন থেকে সরলো বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.10.2021

খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক : ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবাসে যাওয়ার সময় বিএনপির নেতারা হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলো, আন্দোলনের মাধ্যমে দুই মাসের মধ্যে তারা খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করবে। তবে দুর্বল নেতৃত্বের কারণে আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়ে কিছুই করতে না পারলে শেষমেশ সরকারের অনুকম্পায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে সরকারি হেফাজতে গুলশানের ফিরোজা নামক বাসায় ওঠেন বেগম জিয়া।

মূলত রাজনীতির সঙ্গে বিগত তিন বছর থেকে কোনো সম্পর্ক নেই বেগম জিয়ার। গুলশানে বাসায় অবরুদ্ধ হবার আগে কারাগারে থাকা অবস্থায় বিএনপি নেতারা প্রেস কনফারেন্সে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার হুঙ্কার দিতো। গুলশানের বাসায় থাকার পরও এখন পর্যন্ত বিএনপির এক দফা দাবি ছিলো বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বের করার। কিন্তু অবশেষে ব্যর্থ হয়ে কিংবা ষড়যন্ত্রের অংশ স্বরূপ বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন থেকে সরে আসলো বিএনপি।

শুক্রবার ৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এ বৈঠকে পেশাজীবী নেতারা এক দফার দাবিতে কর্মসূচি দিলে তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কথা দিয়েছে বিএনপির সিনিয়ররা। তবে বলা বাহুল্য উক্ত দাবি খালেদা জিয়া মুক্তি সংক্রান্ত কোনো তথ্য ছিলো না। পেশাজীবী সংগঠনের দাবি ছিলো নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের। ফলে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি কি খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন থেকে সরে গিয়েছে কি না।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ আরাফাত বলেন, পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শুধু বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠক হয়নি। সেই বৈঠকে স্কাইপির মাধ্যমে লন্ডন থেকে অংশ নিয়েছিলো তারেক রহমান। জেনে রাখা প্রয়োজন, তারেক রহমানের কাছে খালেদা জিয়া বাঁচা মরা খুব একটা গুরুত্ববহন করে না। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ক্ষমতা। আর এ কারণেই খালেদা জিয়ার মুক্তিকে গৌণ করে ‍নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবির আন্দোলনকে মুখ্য করতে চান তিনি।

তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এক দফা দাবিতে খালেদা জিয়া নেই বলে এই নয় যে আমারা নেত্রীকে হৃদয়ে ধারণ করি না। তবে এ মুহূর্তে মূল দাবি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার। নতুবা ২০২৩ সালের নির্বাচনে হরে গেলে বিএনপির অস্তিত্ব মাটির সাথে মিশে যেতে পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি