বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১



বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেহাল দশা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.10.2021

বিএনপির স্থায়ী কমিটি

নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা, দলের প্রধান খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়তা, দলের অপর নেতা তারেক জিয়ার লন্ডনে অবস্থান করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খলার কারণে বিএনপি মৃতপ্রায়। অন্যদিকে দলের সিনিয়র নেতাদের মৃত্যু ও বার্ধক্যজনিত কারণে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকায় দলের অবস্থা একেবারেই নাজুক।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিএনটির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠক করলেও বাস্তবে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ১৯ সদস্যের এ কমিটির পাঁচটি পদ শূন্য। এদের মধ্যে দলের দুই মরহুম নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তরিকুল ইসলামের পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান দলীয় কার্যক্রম থেকে বাইরে আছেন।

এ ছাড়া ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বয়সের ভারে সেভাবে সক্রিয় হতে পারছেন না। এর বাইরে শারীরিক অসুস্থতা ও বিদেশে অবস্থান করায় চারজন সব সময়ই থাকেন অনুপস্থিত। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে কর্মসূচি গ্রহণে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনায় কেন্দ্রীয় দিকনির্দেশনা প্রদানেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরও মাঠে থাকতে হবে কিন্তু তাদের যদি শারীরিক সক্ষমতা না থাকে তাহলে তাদের কাছ থেকে দল কি আশা করতে পারে। এমনিতেই আমরা বিরোধী দলে আছি তার ওপর যদি সর্বোচ্চ সাংগঠনিক বডির এই দশা হয় তাহলে সরকার বিরোধী বড় কোনো সফলতা আনা চ্যালেঞ্জের।

বিএনপি ঘরানার একজন বুদ্ধিজীবী বলেন, স্থায়ী কমিটিতে এখন তরুণদের স্থান দেয়ার সময় এসেছে। প্রবীণ এবং বয়সের ভারে যারা চলতে পারেন না তাদের দিয়ে কিভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন বেগবান করা সম্ভব?। আর এই বিষয়টি দলের সিনিয়র নেতাদের এখনই বুঝতে হবে তা না হলে দলের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। এমনিতে দলের অবস্থা নাজুক তারপর যারা দলকে সংগঠিত করবেন তাদের অবস্থা আরও নাজুক, তাহলে দল আগাবে কিভাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংকট তৈরি হবে। যেহেতু দলীয় প্রধানরা দূরে অবস্থান করছেন তাই জাতীয় স্থায়ী কমিটিকে আরও বেশি সক্রিয় করার দরকার ছিলো। কিন্তু ঘটেছে ঠিক তার উল্লোটা। এক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি স্থায়ী কমিটিতে তরুণ নেতৃত্ব কিংবা শূন্যস্থান পূরণ না করা হয় তাহলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো সামনের দিনগুলোতে একেবারে ভেঙে যাবে। এই পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে বিএনপি কিভাবে তাদের কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেটাই দেখার বিষয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি