শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » যেভাবে ফাঁস হয় তারেক-মানুনের হাওয়া ভবনের দুর্নীতি



যেভাবে ফাঁস হয় তারেক-মানুনের হাওয়া ভবনের দুর্নীতি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.10.2021

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মূলত সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। প্রশাসনের পদোন্নতি থেকে শুরু করে টেন্ডার, নিয়োগ থেকে শুরু করে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রেই কমিশন বাণিজ্য শুরু হয়ে যায়। দুর্নীতি এবং লুটপাটের এক মহোৎসব শুরু হয়। সকলে বুঝে ফেলে, এখন টাকা ছাড়া লিগ্যাল ওয়েতে আর কোনো কাজ হবে না।

হাওয়া ভবনে বসে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের আয়ত্তে আনতে তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করেন তারেক রহমান এবং গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। প্রথমত, সবগুলো মন্ত্রণালয়ে তাদের মনোনীত ব্যক্তিদেরকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া এবং কোন মন্ত্রণালয়ে কী কাজ আসছে সেই সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত তারেক-মামুনকে সরবরাহ করা। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হারিস চৌধুরী থাকার ফলে সেখানে কী হচ্ছে না হচ্ছে সে সম্পর্কে তারা তথ্য পেতে থাকেন। তৃতীয়ত, গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সারা দেশে নিজস্ব নেটওয়ার্ক থাকার কারণে দেশের ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়। এই ত্রিমুখী অবস্থার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সকল কর্মকাণ্ডের ১০ শতাংশ কমিশনের ব্যবস্থা ১ মাসের মধ্যে চালু হয়ে যায় এবং হাওয়া ভবনে এই কমিশন না দিয়ে কারো কোন কাজ করার সুযোগ ছিল না।

দেশে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তারের পর হাওয়া ভবনের তারেক-মামুনদের নজর পড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উপর। তারা মনে করে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যদি বাংলাদেশে সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় তাহলে বিপুল পরিমাণ অর্থ কমিশন বাণিজ্য করা যাবে। আর এই কমিশন বাণিজ্য করার জন্যই টাটার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে হাওয়া ভবনস্থ কর্মকর্তারা। এর পরপরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয় টাটার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। এই যোগাযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আসে টাটার কর্মকর্তারা এবং সারা দেশে হইচই পড়ে যায়। মাহমুদুর রহমান সগর্বে ঘোষণা করেন টাটা বাংলাদেশে যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করবে এই বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশ পাল্টে যাবে। এই সময় টাটা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে সরকারের নিশ্চয়তা চায় এবং একটি ন্যূনতম মূল্য ঘোষণা করে। প্রথমে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, এটি অত্যন্ত ভালো প্রস্তাব এবং আমরা খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবো। এই সময় মাহমুদুর রহমানকে জানানো হয়, টাটার সঙ্গে কথা বলতে চান তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুন।

বাংলাদেশে আগত টাটার কর্মকর্তারা ভারতে তারেক-মামুনকে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ পেয়ে তারেক-মামুন টাটার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান এবং টাটা এমিরেটাস গ্রুপের চেয়ারম্যান রতন টাটার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে টাটার কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা দাবি করেন তারা। রতন টাটা তারেক-মামুনকে হাসিমুখে বিদায় দেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে ভারত সরকারের কাছে এক গোপন চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশের দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তায়নের গল্প।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি