শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » নেতা হিসেবে তারেকের অযোগ্যতাই ৪৫ ঘণ্টার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু!



নেতা হিসেবে তারেকের অযোগ্যতাই ৪৫ ঘণ্টার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.10.2021

নিউজ ডেস্ক: গত এক মাসে দলের নেতা ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ১০ দিন বৈঠক করেছে বিএনপি। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকগুলো ছিল বেশ দীর্ঘ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো হয়েছে একেকটি বৈঠক। নেতা হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যর্থতা এবং অযোগ্যতার নানা প্রমাণ উঠে এসেছে এই বৈঠকগুলোয়। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জায়গা তারেক রহমানকে দিয়ে যে পূরণ হবে না সেই বিষয়টিও তুলে ধরেছেন দলের নেতারাই। ফলে রুদ্ধদ্বার এবং দীর্ঘ এ বৈঠকগুলো থেকে যা পাওয়ার আশা করেছিল বিএনপি তার কিছুই পায়নি দলটি। বরং এক মাসের আলোচনায় সবার সামনে তারেকের অগ্রহণযোগ্যতা উঠে আসায় দলের আরও ক্ষতিই হয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, ১০ দিনের ভিন্ন ভিন্ন এসব বৈঠকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং পেশাজীবী সংগঠনের মোট ৪২২ জন প্রতিনিধি মতামত দেন। ১০ দিনের এ বৈঠকগুলো ছিল রুদ্ধদ্বার। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কিছু বলা হয়নি; বরং বৈঠকের বিষয়ে মহাসচিব ছাড়া অন্য কেউ যাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেন, সে ব্যাপারে একরকম নিষেধাজ্ঞা ছিল তারেক রহমানের কাছ থেকে। কিন্তু কিছু নেতা এসব বৈঠকের সারকথাগুলো সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেশাজীবী সংগঠনের এক নেতা বলেন, বিএনপিকে সংগঠিত করা এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন নিয়ে বৈঠকের তৃণমূলের আয়োজন করা হলেও মতামতের ক্ষেত্রে সেই আগের মত তারেকনির্ভরতা অধিকাংশ নেতাকর্মীকে হতাশ করেছে। নেতাদের সঙ্গে বৈঠকগুলোতে আলোচনা ও মতামতের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য অনেক বেশি ছিল। আমরা প্রতিনিধিরা আন্দোলনের ব্যাপারে মত দিয়েছি। কিন্তু তারেক রহমানকে জানিয়েছি, আন্দোলন জনসম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু দলীয় কর্মী-সমর্থক বেষ্টিত আন্দোলন কখনো সফল হয় না। এ ছাড়া আগের মত আন্দোলন যাতে সহিংস না হয় এবং সাধারণ জনগণ যাতে আন্দোলনে আতঙ্কিত না হয়ে ওঠে, সে ব্যাপারে সাবধানী হতে হবে। কিন্তু তারেক রহমান বলেছেন আন্দোলনে সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও স্বাভাবিক ঘটনা, এসব না হলে আন্দোলন সফল হয় না। এতে বোঝা যায় তার মনোভাব আগের মতই আছে। আমরা হতাশ হয়েছি।

এ ছাড়া ১০ দিনের বৈঠকে দলের বিভক্তি এবং দল পুনর্গঠন নিয়ে ক্ষোভ, কূটনৈতিক ব্যর্থতাও নিয়েও ব্যাপক সোরগোল হয়েছে। একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাঠামোকে সক্রিয় রাখতে না পারায় তারেক রহমানের সমালোচনা করেছেন অনেকে। সিনিয়র অনেক নেতাই বলেছেন খালেদা জিয়ার জায়গা পূরণের যোগ্যতা তারেক রহমানের নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন গৃহবন্দী। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলীয় কাজগুলো সম্পাদন করছেন। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। ফলে ভীতি কাটিয়ে তাকে দেশে আসার অনুরোধ করা হয়েছ। এছাড়া বিভিন্ন ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে একটি জরুরী বিষয়ে মতামত উঠে এসেছে। দেশি–বিদেশি মহলের বৈরিতা কাটাতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক আর না রাখার বিষয়ে সব নেতা একমত হলেও তারেক রহমান বলেছেন এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই জরুরী বিষয় পাশ কাটিয়ে গিয়ে তিনি নেতাদের মতামতকে এক ধরনের অসম্মান করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে তারেক রহমানের মত অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ যে বিএনপির মত বড় দল চালাতে পারবেন না সেটা সবাই জানে। এভাবে তো বেশি দিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। এক মাসের এসব বৈঠকের মত সামনের দিনে বিএনপির নেতারা আরও মুখ খুলবেন। বিদেশ থেকে একজন লোক নির্দেশ দেবে আর সবাই মানবে এটা অবাস্তব। ফলে জেলের ভয়ে ভীত তারেক রহমানকে দিয়ে আন্দোলন তো দূরে থাক, বিএনপি পরিচালনাই সামনে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি