শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » সরকার অনুমতি দিলেই অবসরে যাবেন খালেদা জিয়া



সরকার অনুমতি দিলেই অবসরে যাবেন খালেদা জিয়া


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.10.2021

খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক : সরকার যদি বিদেশে যাবার অনুমতি দেয় এবং দণ্ড স্থগিত করে, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবেন। বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি বিদেশে যাবেন উন্নত চিকিৎসা করার জন্য। এমনটি বলেছেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা। গত সপ্তাহে বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড হ্রাস এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত একটি আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিবেচনার জন্য। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা এই আবেদনের অন্তত দুটি ভাগ যেন সরকার গ্রহণ করে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি দেন সেটির জন্য দেন-দরবার এবং তদবির করছে। এই দুটির মধ্যে রয়েছে প্রথমত, বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড অনির্দিষ্ট সময়ের স্থগিত করে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রদান। আর বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন যে, এই দুটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই করতে পারেন। আর এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, প্রথমবার গত বছরের ২৫ মার্চ যখন বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন শামীম এস্কান্দার এবং সেলিনা ইসলাম। এবারও বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের এই দুই সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তাদের পক্ষ থেকে যে বিষয়টি সরকারের কাছে বলা হচ্ছে তা হলো বেগম খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। রাজনীতি করার মতো পরিস্থিতি তার নেই এবং রাজনৈতিক ব্যাপারে তার আগ্রহও নেই এবং বিদেশে গিয়ে তিনি কোন রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি ইত্যাদি দেবেন না বা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। তাদের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া গত প্রায় দেড় বছর ধরে জামিনে আছেন। এসময় তিনি কোনো রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি এবং কোনরকম কর্মসূচিতেও তিনি অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি ভিডিও কনফারেন্স, টেলি কনফারেন্সে বিবৃতি প্রদান ইত্যাদি থেকেও তিনি বিরত ছিলেন। অর্থাৎ একজন অসুস্থ ব্যক্তি শুধুমাত্র চিকিৎসা নেওয়ার জন্য যা যা করে সে কাজগুলোই বেগম খালেদা জিয়া এ সময় করেছেন। এটিই বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার পরিবারের সবচেয়ে বড় যুক্তি।

তারা মনে করছে যে, বেগম জিয়ার আসলে তেমন কোনো চিকিৎসাই হয়নি। কারণ এই সময়ে দেশে এবং বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। যার ফলে কোন হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা গ্রহণ তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা এটা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসাগুলো, সেই চিকিৎসাগুলো অধিকাংশ বিদেশেই হয়েছে। যার ফলে চিকিৎসার ফলোআপগুলো একমাত্র বিদেশেই সম্ভব। দেশে এই চিকিৎসা অসম্ভব। এজন্যই তারা মনে করছেন, এখন যেহেতু বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি একটু সহনীয় মাত্রায় এসেছে, এজন্য তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান।

আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কাছে এসেছে সেটি তারা পরীক্ষা করে দেখছেন। তবে এই আবেদনের মধ্যে বেশ কিছু প্রাথমিক অসঙ্গতি পেয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। যেমন তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন করেছেন অথচ তিনিই কোথায় চিকিৎসা করবেন, কেন তাকে বিদেশে চিকিৎসা করতে হবে, দেশে তার চিকিৎসার অসম্পূর্ণতা কোথায় সংক্রান্ত কোন কাগজ পত্র পাওয়া যায়নি। আইন মন্ত্রণালয় মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দেয়া হবে কি হবে না, এটি নির্ভর করবে তার চিকিৎসা সুযোগ-সুবিধার উপর। দেশে যদি তার চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা থাকে, তাহলে তাকে বিদেশে নেয়ার প্রশ্নই আসে না বলে মনে করছেন আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তবে তারা এটাও স্বীকার করেছেন যে, বিষয়টি রাজনৈতিক এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সরকারের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন যে, খালেদা জিয়া এখন যত কথাই বলুক না কেন বিদেশে যাবার অনুমতি পাওয়ার পর বিদেশে গিয়ে তিনি যে পাল্টে যাবেন না তার গ্যারান্টি কোথায়। এর আগেও তারেক রহমান মুচলেকা দিয়েই ২০০৮ সালে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর তিনি এখন দেশের আইন এবং বিচারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছেন। খালেদার ক্ষেত্রেও যেন সেটি না ঘটে, সেটি সরকারের প্রধান লক্ষণীয় ব্যাপার বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি