শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » তারেক রহমানের রচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র ঘটনার ধারা বর্ণনা



তারেক রহমানের রচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র ঘটনার ধারা বর্ণনা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.10.2021

১০ ট্রাক অস্ত্র

নিউজ ডেস্ক : ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি-জামায়াত জোট। এই বিজয়ের পেছনে ভারতের সমর্থন ছিলো বলে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে তারেক রহমান দিল্লিতে গিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং সেই বৈঠকে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে ভারতের জন্য কি কি করবেন সে ব্যাপারে মুচলেকাও দিয়েছিলেন। আর এর প্রেক্ষিতেই ভারত ওই নির্বাচনে বিএনপিকে আসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছিলো।

আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার ভাষণে বলেছেন যে, ২০০১ এর নির্বাচনে ভারতের ‘র’ এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট গোপনে আঁতাত করেছিলো। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তারেক রহমান ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন। ভারতের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হলেও অর্থ এবং নানা কৌশলের জন্য তারেক রহমান ভারতের পাশাপাশি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করেন। অনেকে মনে করেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর থেকে অর্থ প্রাপ্তির প্রেক্ষিতেই তারেক রহমান ভারতের জঙ্গি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীর সঙ্গে এক ধরণের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। আর সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ব্যাপক সমর্থন এবং আর্থিক সহায়তা ছিলো বলে জানা যায়।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য ছিলো বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন সেটা যেখান থেকেই হোক না কেন। আর জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক স্থাপন করে তারেক রহমান আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হয়েছিলেন তেমনি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তারেক রহমানের ফর্মুলা ছিলো খুবই পরিষ্কার, বাংলাদেশে যদি জঙ্গি নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা যায় তাহলে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করা যাবে এবং জঙ্গিদের দিয়ে আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করলে সেটির দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়বে না। এই সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র সরবরাহের এক মিশনে নামে হাওয়া ভবন এবং তারেক রহমান। আর সেই মিশনে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহৃত হতে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং মোংলা বন্দরকে অস্ত্র চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে। আর এই অস্ত্র ধরা পড়ার ঘটনাটি ধরা পরে একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার উদ্যোগে। এই ঘটনায় বিএনপি বিব্রত হয়েছিলো এবং এর ফলে ভারতের সঙ্গে বিএনপির যে নির্বাচনী সম্পর্ক ছিলো সেই সম্পর্কে ছেদ পড়েছিলো। ২০০২ সাল থেকেই ভারত জেনেছিল যে তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিচ্ছিন্নতাবদীদের পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার মদদ রয়েছে। এ নিয়ে ভারত বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে একাধিকবার দেনদরবার হয়েছে কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে পাত্তা দেয়নি। হাওয়া ভবনের একটি ধারণা তৈরি হয়েছিলো যে তারা ক্ষমতায় আছে এবং যেকোনো প্রকারে তারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করবে।

এখন ভারতকে চাপে ফেলতে হবে যাতে ভারত কখনও বাংলাদেশের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনা ছিলো হাওয়া ভবনের জন্য বিব্রতকর। এই অস্ত্র আটকের পরপরই বিএনপির ব্যাপারে একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ শুরু করে ভারত। অনেকেই মনে করেন যে, ১০ ট্রাক অস্ত্রের ঘটনাটি উন্মোচিত হয় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কারণে। ভারত ওই অস্ত্র আমদানির বিষয়টি জেনেছিল এবং ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলো যে, কতগুলো ট্রাক ভর্তি করে অস্ত্র আসছে, সেগুলোকে সার্চ করার জন্য। বিএনপি এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। আর এর মধ্যে দিয়ে একটি বিষয় আন্তর্জাতিক মহলে প্রমাণিত হয়ে যায় সেটি হলো তারেক রহমান অর্থের জন্য সবকিছু করতে পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি