বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » চিকিৎসকদের পরামর্শ অমান্য করে এত দিন কেন বাড়িতে থাকলেন খালেদা?



চিকিৎসকদের পরামর্শ অমান্য করে এত দিন কেন বাড়িতে থাকলেন খালেদা?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.10.2021

নিউজ ডেস্ক: করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ৫৪ দিন চিকিৎসা নিয়ে গত ১৯ জুন গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বাসায় আসার পর শুরুতে কিছুটা ভালোই ছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে আবারও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তখনই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু ওইসময় হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি হননি খালেদা জিয়া। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হওয়ায় বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অসুস্থ হয়েও খালেদা জিয়ার হাসপাতালে ভর্তি হতে অনীহা কেন? এর পেছনের কারণই বা কী?

জানা গেছে, ১৯ জুন হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে বিএনপির দলীয় কর্মকাণ্ডের খোঁজ নিতে শুরু করেন খালেদা জিয়া। করোনামুক্ত হয়ে নতুন করে মানসিক শক্তি লাভ করেন খালেদা জিয়া। আবারও রাজনীতি শুরু করার আগ্রহ জন্মায় তার মধ্যে। ফলে দেশের রাজনীতিসহ দলীয় বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন। এসময় বিএনপির প্রবীণ নেতাদের অনেকেই আশা ফিরে পেতে শুরু করেন। খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরবে এই আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে তাদের মধ্যে। এই নেতারা তারেক রহমানের কারণে দলে কোণঠাসা হয়েছিলেন। তারা এসব বিষয়ে খালেদার কাছে অভিযোগ করেন। ফিরোজায় খালেদাকে ঘিরে একটা উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। খালেদাপন্থীদের এই উদ্দীপনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারেক রহমান। তিন বছর ধরে তিলে তিলে সাজানো বাগান ধ্বংসের আশঙ্কা গেড়ে বসে তারেকের মনে। এই বুঝি বিএনপির কর্তৃত্ব হাতছাড়া হয়ে গেল!

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে আবারও ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ম্যাডাম ডাক্তারদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেন। তিনি আমাকে বলেন, তোমরা আমাকে আবারও বন্দি করতে চাও! জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার এই মন্তব্যে তিনি বেশ অবাক হন। অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলে তার এরকম প্রতিক্রিয়ার কারণ কোনভাবেই বুঝে উঠে পারেননি তিনি।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া আবারও বিএনপির হাল ধরুক, সেটা কোনভাবেই চান না তারেক রহমান। একক কর্তৃত্ব হারানোর ভয় থেকেই খালেদাকে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে বন্দী করে রাখতে দলের চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক। বিষয়টি বুঝতে পেরেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতালে ভর্তি হতে অনীহা জানিয়েছিলেন খালেদা। কিন্তু এরপর তাকে হাসপাতালে পাঠাতে উঠেপড়ে লাগেন তারেক। প্রতিনিয়ত চাপের কারণেই খালেদার শরীর আরও খারাপ হতে থাকে। অবশেষে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের ভেতরেই কিছু কালসাপ আছেন যারা চান না ম্যাডাম আবার বিএনপির হাল ধরুক। এদের আমরা চিনি, সুসময়ের কোকিল। এদের হাতে শহীদ জিয়ার বিএনপি নিরাপদ নিয়। ম্যাডামকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করাই এদের মূল কাজ। এদের বিরুদ্ধে নিঃসঙ্গ শেরপার মত আমার লড়াই অব্যাহত থাকবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি