শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠক শেষেই হাসপাতালে খালেদা, নেপথ্যে কী?



বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠক শেষেই হাসপাতালে খালেদা, নেপথ্যে কী?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.10.2021

নিউজ ডেস্ক: গত এক মাসে দলের নেতা ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ১০ দিন বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকগুলো ছিল বেশ দীর্ঘ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো হয়েছে একেকটি বৈঠক। শনিবার (৯ অক্টোবর) বৈঠক শেষ হওয়ার তিন দিনের মাথায় (১২ অক্টোবর) আজ বিএনপির চেয়ারম্যান খালেদা জিয়াকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করানো হল। জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আবারও খারাপ হতে থাকে খালেদা জিয়ার শরীর। কিন্তু তখন ভর্তি না করে বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠক শেষেই কেন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হল, এমন প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, গত এক মাসের বৈঠকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং পেশাজীবী সংগঠনের মোট ৪২২ জন প্রতিনিধি মতামত দেন। ১০ দিনের এ বৈঠকগুলো ছিল রুদ্ধদ্বার। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কিছু বলা হয়নি; বরং বৈঠকের বিষয়ে মহাসচিব ছাড়া অন্য কেউ যাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেন, সে ব্যাপারে একরকম নিষেধাজ্ঞা ছিল তারেক রহমানের কাছ থেকে। কিন্তু কিছু নেতা এসব বৈঠকের সারকথাগুলো সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, নেতা হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যর্থতা এবং অযোগ্যতার নানা প্রমাণ উঠে আসে এই বৈঠকগুলোয়। এছাড়া তারেক রহমানকে দিয়ে যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জায়গা পূরণ হবে না সেই বিষয়টিও তুলে ধরেছেন দলের বেশিরভাগ নেতারাই। ফলে এই বৈঠকের পর তারেকের নেতৃত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। খালেদাপন্থীদের চাপে ফেলতে বেশ উঠেপড়ে লাগেন তারেক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারেক রহমানের অনুসারী এক নেতা বলেন, অনুসারীদের সাথে পরামর্শ করে খালেদা জিয়াকে বাসায় না রাখার সিদ্ধান্ত নেন তারেক। কারণ খালেদা বাসায় থাকলেই দলের ওপর একধরনের কর্তৃত্ব তৈরি হয় তার। আর নেতারাও তখন তারেকের কথায় গুরুত্ব দেন না। বাসা থেকে খালেদাকে হাসপাতালে পাঠালে দলের নেতারা বাধ্য হয়ে তার কথা মানবেন অনুসারীরা এমন পরামর্শ দেন তারেক রহমানকে। এরপরই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্দেশ দেন খালেদাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১০ দিনের বৈঠকে দলের বিভক্তি এবং দল পুনর্গঠন নিয়ে ক্ষোভ, কূটনৈতিক ব্যর্থতাও নিয়েও ব্যাপক সোরগোল হয়েছে। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাঠামোকে সক্রিয় রাখতে না পারায় তারেক রহমানের সমালোচনা করেছেন অনেকে। সিনিয়র অনেক নেতাই বলেছেন খালেদা জিয়ার জায়গা পূরণের যোগ্যতা তারেক রহমানের নেই। তারা ম্যাডামকেই আবার দলের হাল ধরার অনুরোধ করেন। কিন্তু এর সাথে ম্যাডামের হাসপাতালে ভর্তির কোন সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। উনি তো অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠকে তারেকের অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতা নিয়ে নেতাদের সমালোচনা এবং খালেদা জিয়াকে দলের হাল ধরার অনুরোধ তারেককে আতঙ্কিত করেছে। বিএনপির কর্তৃত্ব হারানোর ভয় থেকেই খালেদাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দিয়েছেন তারেক। মূলত খালেদার মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তারেক। তার আগ পর্যন্ত দলের কর্তৃত্ব এককভাবে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেই খালেদাকে হাসপাতালে ভর্তি করালেন তারেক।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি