রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » দেশে রিস্ক আছে, আর সবারইতো মরতে হবে: ফখরুলকে তারেক



দেশে রিস্ক আছে, আর সবারইতো মরতে হবে: ফখরুলকে তারেক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.10.2021

ফখরুল ও তারেক

নিউজ ডেস্ক: শারীরিক নানা জটিলতায় মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্বিগ্ন দলের নেতাকর্মীসহ জিয়া পরিবারের লোকজন। অথচ কোনো ভাবাবেগ নেই খালেদার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের। লন্ডনে পরিবার নিয়ে আরাম-আয়েশে পলাতক জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। বলেছেন- ‘দেশে রিস্ক আছে। আর সবারইতো মরতে হবে। এমনতো না, আমি দেশে আসলে মা’র আয়ু বেড়ে যাবে।’

বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির একজন সিনিয়র নেতা।

এভার কেয়ার হাসপাতালের লবিতে বসে যখন মির্জা ফখরুল তারেক রহমানের সাথে ফোনে কথা বলছিলেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির একাধিক নেতা। তাদের মধ্য থেকে পরিচয় গোপন রেখে একজন বাংলা নিউজ ব্যাংককে জানিয়েছেন, তারেক রহমান দেশে আসবেন না। এমনকি তার স্ত্রী-সন্তানকেও দেশে আসতে দেবে না।ফখরুল ভাই যখন বলছিল- এই সময় সন্তান নাতি-নাতনিরা ম্যাডামের পাশে থাকলে তিনি মানসিকভাবে স্ট্রং থাকতো। একথাতেও তারেক সাহেবের আগ্রহ ছিল না। তিনি প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে ফেলেন।

তিনি আরো বলেন, কোনোভাবেই জেলে যেতে চান না তারেক। নিজেও আসবে না। তার স্ত্রী-সন্তানকেও পাঠাবে না। তাদেরও দেশে ফেরার আগ্রহ নেই। তারা চায় ম্যাডামকে বিদেশে নিয়ে যেতে।

এদিকে খালেদা জিয়া যখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তখন থেকেই দলের নেতাকর্মীর প্রত্যাশা যে বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য হয়তো তার দুই ছেলের বৌ দেশে আসবেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ আসেনি। এখন এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানামুখী কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। বিএনপির অনেক নেতাই বলছেন, এখন যেহেতু দেশের রাজনীতিতে, দলের রাজনীতিতে ম্যাডামের ভূমিকা নেই সেজন্যই কেউ আসছেন না।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, সম্পত্তির জন্য মায়ের সাথে ঝগড়া করতে পারে। তাদের কাছে মা বা শাশুড়ির সেবা মুখ্য বিষয় না, শাশুড়ির সম্পদের ভাগ পাওয়াই হল প্রধান বিষয়; এজন্যই তাদের কোনো খবর নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্ধক্যে এসে সবাই প্রিয়জনের সঙ্গ চান। তার আত্মীয়-স্বজন সন্তান নাতি-নাতনিরা যেন তার পাশে থাকে তার সেবা করে এটিই একজন মানুষের শেষ বয়সের চাওয়া-পাওয়া। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার দুর্ভাগ্য তার অসুস্থতার সময় কেউ তার পাশে নেই। তারেক জিয়া একাধিক মামলায় দণ্ডিত তিনি লন্ডনের পলাতক। তিনি মায়ের চেয়ে নিজেকে বেশি ভালবাসেন। যদি মাকে তিনি বেশি ভালোবাসতেন তাহলে হয়তো তিনি কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে আসতেন। অনেকেই বলেন, তিনি নিজেকে আইনে সোপর্দ করতে চান না তাই দেশে আসছেন না।

তারেক জিয়ার স্ত্রী জোবাইদার, কন্যা জাইমা-জারিফা তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। কোনো মামলাও নেই। আরাম আয়েশের জীবন ছেড়ে তারাও দেশে এসে খালেদা জিয়ার সেবা করতে চায় না। পাশে থাকতে চায় না।

এখনতো বিএনপিতেই প্রশ্ন উঠেছে, যারা নিজের মা বা শাশুড়ির সেবা করতে চায় না। তারা দেশের জনগণের কী সেবা করবে?



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি