রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



হাসপাতালে অসহায় অভিভাবকহীন খালেদা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
15.10.2021

নিউজ ডেস্ক : বার্ধক্যজনিত চিকিৎসার কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে যখন একজন প্রবীণ মানুষ যখন অসুস্থ থাকেন তখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার একজন বৈধ অভিভাবক লাগে। যিনি তার পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তার। চিকিৎসকরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে পরামর্শ করে যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।

বেগম খালেদা জিয়া এখন অসুস্থ, তিনি হাসপাতালে আছেন। কাজেই তার চিকিৎসা এবং নানা রকম বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষম। আর তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে বেগম খালেদা জিয়ার বৈধ অভিভাবক কে? এরকম একজন প্রবীণ মানুষের জন্য বৈধ অভিভাবক হয় তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার বড় সন্তান। তারেক রহমান লন্ডনে আছেন এবং লন্ডন থেকেই তিনি অভিভাবকত্ব করছেন কিনা তা জানা যায়নি। কারণ বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হবার পর থেকে তারেক রহমানের এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য বিবৃতি বা বিএনপি নেতাদের মুখে তারেক রহমানের বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে উৎকণ্ঠার কোনো কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। বরং গণমাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকি বলেছেন যে, লন্ডন থেকে ডাক্তার জোবায়দা বেগম জিয়ার চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন।

ডাক্তার জোবায়দা খোঁজখবর নেওয়া আর এখানে থেকে ক্ষণে ক্ষণে মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত দেওয়া এক বিষয় নয়। কাজেই অভিভাবক হলেও তিনি সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। কারণ একজন মুমূর্ষু রোগীকে দূর দেশ থেকে কোনো অভিভাবকই সব ধরনের নির্দেশনা দিতে পারেন না। খালেদা জিয়ার পরিবারের দুইজন সদস্য হাসপাতালে সার্বক্ষণিকভাবে আছেন। তারা হলেন, তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং বোন সেলিনা ইসলাম। মূলত তারাই অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু চিকিৎসা বিষয়ক লন্ডন থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মূল পরিচয় তিনি দেশের অন্যতম প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন, বিএনপি`র নেতা। দলের কারণেই তিনি খালেদা জিয়া হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। দলের কারণেই তিনি দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। সে কারণেই দলেরও একটা অভিভাবকত্ব বেগম খালেদা জিয়ার ওপর থাকতে পারে।

আর সেই বিবেচনায় দলের কোনো নেতাও যদি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করতেন, কি করা হবে বা করা যাবে না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে পরেও সেটি অশোভন হতো না। কিন্তু একসাথে হাসপাতালে ভর্তি থাকা বেগম খালেদা জিয়ার অভিভাবকত্ব নিয়েই যেন এক ধরনের দ্বৈরথ এবং টানাপোড়েন চলছে। লন্ডন থেকে এক ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আবার ঢাকার চিকিৎসকরা অন্যরকম দিচ্ছেন। দলের নেতারা এক রকমের কথা বলছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসক অন্যভাবে কথা বলছেন। একটা মানুষ যখন জটিল রোগের মধ্যে মুখোমুখি হয় তখন প্রতি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য একজন যোগ্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি লাগে। যিনি সেই সময় অভিভাবক। খালেদা জিয়ার সেরকম কোনো অভিভাবক কি এখন আছে?



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি