রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » তারেকের চক্রান্তেই প্রতিমা ভাঙচুর, আটক ছাত্রদল নেতারা



তারেকের চক্রান্তেই প্রতিমা ভাঙচুর, আটক ছাত্রদল নেতারা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.10.2021

গত কিছুদিন ধরে বিএনপি একের পর এক বৈঠক করেছিল এবং এসব বৈঠকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছিলো। বিএনপি প্রথম দফায় মোট ছয় দিন কেন্দ্রীয় এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দ্বিতীয় দফায় দুইদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে বিএনপি সরকারকে হটানোর রূপ-পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এক দফা আন্দোলনে তারা যেতে পারে। আন্দোলনের একটি কর্মসূচি চূড়ান্ত করার কথাও বলা হয়েছে। বিএনপির এই আন্দোলনের হুমকি এবং আক্রমণাত্মক কথাবার্তার সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগও তীব্রভাবে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছে এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যে আপত্তি সেটির ব্যাপারেও আওয়ামী লীগ তার অবস্থান খোলাসা করেছে।

কিন্তু বিএনপির যে পাঁচ দিনের বৈঠক সেই বৈঠকে একটি বিষয় খুব সুস্পষ্টভাবে এসেছে, তা হলো বিএনপি একটি কিছু ঘটনা ঘটাতে চায়। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে একটা ঘটনা ঘটাতে হবে, তারপর আন্দোলনের শুরু করতে হবে। তাহলে কুমিল্লার ঘটনা কি সেই ঘটনা ঘটানোর একটি চেষ্টা, এরকম প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশে খুব সহজে উত্তেজনা তৈরি করা যায় এরকম ঘটনা গুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা একটি। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে, মৌলবাদী অপশক্তি গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করার জন্য বা গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা তৈরির চেষ্টা করে। কুমিল্লার ঘটনাটিও সেরকম একটি ঘটনা কিনা সেটা খুঁজে দেখা দরকার।

সে ব্যাপারে তদন্ত করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, বিএনপি আন্দোলনের হুমকি এবং কুমিল্লার ঘটনা এ দুটির মধ্যে মিল খুঁজতে হবে। বাংলাদেশে গত ১২ বছরের যে সমস্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনাগুলো ঘটেছে, যে সমস্ত সহিংস বা উগ্রবাদী তৎপরতা ঘটেছে সেই সবগুলো তৎপরতার পিছনেই লন্ডনের ইশারা রয়েছে।

এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের একটি বিরাট গোষ্ঠীও লন্ডনে রয়েছে। এই গোষ্ঠী এবং তারেক জিয়া মিলে বিভিন্ন সময় লন্ডন থেকে নানারকম পরিকল্পনা করেছেন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য।

বাংলাদেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক জিয়ার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের কথোপকথন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় লন্ডন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের বিভিন্ন রকম বক্তব্য, উস্কানিমূলক বিবৃতি এবং বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক কথাবার্তা, সবকিছু নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে উস্কে দিয়েছিল। বিশেষ করে গুজব ছড়িয়ে এই আন্দোলনকে তীব্র করার একটা চেষ্টা দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু সেগুলো কোনটাই শেষ পর্যন্ত হালে পানি পায়নি। হেফাজতকে দিয়েও লন্ডন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। আর সেজন্য সে সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। কিন্তু সে চেষ্টাও সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে দমন করেছে।

এখন সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বিদের সবচেয়ে বড় উৎসব, শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগানোর একটি নীলনকশা লন্ডন থেকেই এসেছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা দরকার বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন। কারণ, বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান কেউই এরকম উগ্রবাদী না যে তারা এরকম একটি ঘটনার দায় নিবে। বাংলাদেশের যতগুলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটেছে সবগুলো পিছনে কোন না কোন মহলের ইন্ধন ছিল। কুমিল্লার ঘটনার পিছনে কার ইন্ধন সেটি খুঁজে বের করা দরকার বলে সংশ্লিষ্টরা বলে মনে করছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি