রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » সরকারকে ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরতেই পীরগঞ্জে হামলা!



সরকারকে ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরতেই পীরগঞ্জে হামলা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.10.2021

হাজার বছর ধরে বাংলাদেশে কাঁধে কাঁধ রেখে পাশাপাশি বসবাস করছে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। একাত্তরেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র আজও শেষ হয়নি। স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে আটকাতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পরাজিত অপশক্তি। কিন্তু জনগণ তাদের সকল অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করায় এবার তারা মরিয়া হয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরার জন্যই দেশে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হচ্ছে। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, কুমিল্লায় যে মণ্ডপে কুরআন পাওয়া গেছে সেই পূজামণ্ডপটি ছিল শহরের নানুয়াদীঘির পাড়ে। নানুয়াদীঘির একপাড়ে ছিল পূজামণ্ডপ এবং অপর পাড়েই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়রের বাসভবন। কিন্তু ভোরেই তাকে ঘটনা জানানো হলেও তিনি অনেক দেরিতে ঘটনাস্থলে আসেন। তার আগেই সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। মেয়র মনিরুল হক জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার দেরি করে ঘটনাস্থলে আসা নিয়ে সেদিনই প্রশ্ন তৈরি হয়।

কুমিল্লার স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের মেয়র হিসেবে উত্তেজনার কথা শুনে তার সবার আগে পূজা মণ্ডপে ছুটে আসার কথা। কিন্তু তিনি এসেছেন অনেক পরে, আসলে নিজেদের কর্মী দিয়ে ঘটনা ঘটিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। হামলার পর দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ এই কথা বিএনপির নেতারা খুব জোরেশোরে বলতে শুরু করে। দেশি-বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহলেরও অনেকে বিএনপির সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলতে থাকে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। তখনই ‘মরণ কামড়’ দেয় বিএনপি জামায়াত। পরিকল্পনা মতো, প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, বটতলা ও হাতীবান্ধা গ্রামে হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে তার ফল ভোগ করতে চায় বিএনপি-জামায়াত। হিন্দু বাড়িতে হামলা-অগ্নিকাণ্ড তারই অংশ। সারা দেশে হামলার পর তারা সর্বশেষ পীরগঞ্জে হামলা চালিয়ে মানুষকে বোঝাতে চায় প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ির এলাকাও নিরাপদ নয়। এসব হামলা আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরে সরকারকে ব্যর্থ হিসেবে প্রচার করাই আসল উদ্দেশ্য। টানা এক যুগ আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি