সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১



এ মাসেই জেলে যেতে পারেন খালেদা জিয়া


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.10.2021

খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক: জেল থেকে ফিরে দেড় বছর ধরে বহাল তবিয়তে সরকারের অনুকম্পায় গুলশানের বাসায় থাকলেও ফের কারাগারে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ৬ মাসের বিশেষ বিবেচনায় জামিন পেয়েছিলেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকারের নির্বাহী আদেশে বেগম খালেদা জিয়াকে এই জামিন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় তিনি এই জামিন পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এই জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবর।

৩০ অক্টোবরের পর বেগম খালেদা জিয়া`র কি অবস্থা হবে, তিনি কী বিদেশ যেতে পারবেন নাকি তার জামিনের আবেদন একই রকম নিয়মে আবার বহাল রাখা হবে অথবা তাকে জেলে যেতে হবে এই তিন সম্ভাবনার মধ্যে কোন সম্ভাবনা বেশি জোরালো তা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম বিচার-বিশ্লেষণ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই আদেশে সরকারের কোনো প্রভাব নেই। বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাই তাকে মুক্ত করে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার জন্য যে প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই কাজ করছে। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তিন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার প্রথম উদ্যোগ হল, চলমান যে মামলাগুলো আছে সেই মামলাগুলো থেকে তার জামিন নেয়া। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৪টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা হলো অন্যতম। এখন যদি ৬ মাসের মধ্যে এই মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হয় এবং হাইকোর্টের যে পর্যবেক্ষণ সেটি যদি আমরা অনুধাবন করি তাহলে এই মামলাতেও বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ডিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এই মামলায় যদি বেগম খালেদা জিয়া দণ্ডিত হন তাহলে এই মামলার জন্যও আবার নতুন করে নির্বাহী আদেশ নিতে হবে অথবা জামিনের আবেদন করতে হবে।

এই মামলা নিষ্পত্তি হলে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল যে বেগম খালেদা জিয়ার আপাতত বিদেশি যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই অন্তত গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত। কারণ হাইকোর্টের এই নির্দেশনায় সুস্পষ্টভাবে এই মামলা ছয় মাস সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। কাজেই এই ছয় মাসের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলে তা হাইকোর্টের আদেশের এক ধরনের লঙ্ঘন। একই সাথে এটি হবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর এক ধরনের হস্তক্ষেপ। কাজেই সরকার নিশ্চিতভাবেই সেটি করবে না। আবার বেগম খালেদা জিয়ার যে জামিনের আবেদন সেই জামিনের আবেদন বাড়ানোর জন্য আগামী এক মাসের মধ্যে তাকে আবেদন করতে হবে। ইতিমধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকারের অবস্থানের কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কিছুদিন ধরেই সরকার কঠোর ভাষায় বিএনপি`র নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করছে। এরকম বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার পরিণতি কী হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, আপাতত এই বিচারাধীন মামলা থাকা অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি