রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » মণ্ডপে কোরআন: পরিকল্পনা তারেকের, বাস্তবায়ন করে জামায়াত-শিবির



মণ্ডপে কোরআন: পরিকল্পনা তারেকের, বাস্তবায়ন করে জামায়াত-শিবির


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.10.2021

নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের অস্থায়ী একটি মন্দিরে পবিত্র কোরআন রাখার খবরের সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অনেক স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরিকল্পনা ছিল- সারাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে সরকার তৎখাত করে ক্ষমতা দখল করবে বিএনপি-জামায়াত। এর পর দেশে ফিরবেন দণ্ডিত পলাতক আসামি তারকে রহমান।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার হয় মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে আসা ইকবাল হোসেন। জানা যায়, এর পর থেকেই উধাও কুমিল্লার জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, নেতাকর্মীদের সাথে টানা বৈঠক করে সরকার উৎখাতের জন্য দুর্গাপূজাকে টার্গেট করে তারেক। তাই পরিকল্পনা করেন মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরীফ রাখার। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের উপর। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর জন্য তারেকের বরাদ্দ ছিল ১০০ কোটি টাকা।

বিএনপির পলাতক এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, কোরআন অবমানোনা হলেই দেশে দাঙ্গা বাধানো সহজ হবে। তাই মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবালকে বেছে নেয় কুমিল্লার স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতারা। টার্গেট ছিল কুমিল্লার যেকোনো মন্দির।

পুলিশের তদন্তেও বেড়িয়ে এসেছ সেই তথ্য। নানুয়ার দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে শুরুতে ঢুকতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ইকবাল হোসেন। পূজামণ্ডপটিতে শুরুতে ইকবাল লোকজন দেখে মিশন সফল না করে ফিরে আসেন। এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপের অদূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে। সেখানে গেটের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ারদীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। সেখানে ওই সময় লোকজন না থাকার সুযোগে তিনি কোরআন শরিফ রেখে যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে যে যতবেশি ঠুনকো, তার আস্ফালন তত বেশি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারেই অনুপস্থিত তারেক জিয়া। তার নিজ দলেও তাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা হয়। রাজনীতিতে সে গুরুত্বহীন হয়ে গেছে, এ ধরনের কথা প্রায় সব মহল থেকেই বলা হয়েছে বহুবার। এ রকম পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতির আলোচনায় নিজেকে রাখতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। আর এমন ষড়যন্ত্রে তারেক জিয়া অত্যন্ত পারদর্শী এবং অত্যন্ত উৎসাহীও বটে। অতীতেও বিভিন্ন সময় এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। কুমিল্লার ঘটনাটি যদি সেখানেই শেষ হয়ে যেত তাহলে বলা যেত যে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যেভাবে উস্কানি, সহিংসতা, ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে তাতে এটিকে আর এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বরং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই একটি পরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ নাশকতার ঘটনা।

আর এ ঘটনায় উস্কানিদাতা এবং আক্রমণকারীদের প্রায় সবারই রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছ। তারা বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজতের সঙ্গে যুক্ত।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি