সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » তারেকের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন নুর?



তারেকের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন নুর?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.10.2021

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সর্বশেষ নির্বাচিত সহ-সভাপতি নূরুল হক নুরকে নিয়ে ধুম্রজালের শেষ হচ্ছে না। কুমিল্লার ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো চট্টগ্রামেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ যুব–ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসবে এ ধরণের সহিংসতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এ নিয়ে যেমন কথাবার্তা চলছে, তেমনি এসব ঘটনার মূলহোতা, কারিগর হিসেবে লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার পাশাপাশি ভিপি নুরের সম্পৃক্ততা নিয়েও জনপরিসরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, তারেক জিয়ার সঙ্গে নুরের গোপন আঁতাত রয়েছে। আবর অনেকে বলছেন, ভিপি নুর কারো এজন্ডাই বাস্তবায়ন করছেন না। তিনি নিজের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছেন বলে জনগণের বিপুল একটি অংশ মনে করছেন। এ রকম বাস্তবতায় ভিপি নুর আসলে যে কার, তা নুরই ভালো বলতে পারবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লায় পূজা মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার খবর পেয়েই যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা গোপন স্থানে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর নগরীর আন্দরকিল্লায় শাহী জামে মসজিদের সামনে কথিত কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি ও মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, টেরিবাজার ও রিয়াজউদ্দিন বাজারের দোকান কর্মচারীদের উসকানি দিয়ে উত্তেজিত করে মিছিলে শরিক করা হবে।

উল্লেখ্য, টেরিবাজার ও রিয়াজউদ্দিন বাজারের দোকান মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে জামায়াত সমর্থকের আধিক্য আছে। তারা রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতা মো. সাদেক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যিনি কর্মচারীদের একটি সংগঠনেরও নেতৃত্বে আছেন। আর টেরিবাজার এলাকায় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নানের ভাতিজা ইমরান মাজেদ রাহুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাহুলও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। ফলে এ প্রশ্ন অত্যন্ত ন্যায্য যে, এরা কার মদদে এ তাণ্ডব চালালো। দলের প্রধান নেতার গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া এতজন নেতা একসঙ্গে কিভাবে সহিংসতা চালান এটিও একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, ভিপি নুর যদি নির্দেশ নাও দিয়ে থাকেন, তবুও তার নেতা-কর্মীদের দ্বারা সংগঠিত এ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় নুরের কাঁধেও বর্তায় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, কুমিল্লার তৃণমূলের সঙ্গে লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার বৈঠক ও চট্টগ্রামে নুরের দলের ১০ নেতা গ্রেফতার একই সূত্রে গাঁথা কি না, তা তদন্ত করা দরকার। কুমিল্লার ওই বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা দরকার এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার যে এই বৈঠকের পর তারা কি কি করেছিলেন। পাশাপাশি ভিপি নুরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই ঘটনার উৎসমূলে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে অনেক বিশ্লেষক বিষয়টিকে এত সরলীকরণ করতে চাচ্ছেন না। তারা বলছেন, ভিপি নুর ভিপি হয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে। আওয়ামী লীদের সমর্থন ছাড়া নুর ডাকসুর ভিপি হতে পারতো না। যেখানে অন্যান্য সব পদে ছাত্রলীগের জয়জয়কার ছিল, সেখানে ভিপি পদটিতে নুরের জয়লাভ করা উপরি মহলের আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব হতো না। ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ডাকে গণভবনে গিয়ে তাকে ‘মমতাময়ী মা’ বলেও সম্বোধন করেন তিনি। এ ছাড়া নুর নতুন দলের ঘোষণা দিয়েছে রেজা কিবরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে। রেজা কিবরিয়া আওয়ামী লীগের সফল অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ছেলে। অনেকেই রেজা কিবরিয়াকে আওয়ামী ঘরানার মনে করেন। তাছাড়া, ছাত্রদলের সঙ্গে নুরের সম্পর্ক ভালো না। ছাত্রদলের নেতৃত্ব স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেন। ভিপি নুরও ছাত্রদলের অতীত কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন। যদিও রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তারপরও এতগুলো ধাপ পেরিয়ে নুরের জন্য তারেকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা ও তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা তার জন্য দুষ্কর হবে বলেই মনে করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তারেক জিয়ার নেতৃত্বে একাধিক সিরিজ বৈঠক করে বিএনপি। বৈঠকগুলোতে একাধিক বার একটা ঘটনার ঘটানোর কথা বলা হয়। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, ১১ এবং ১২ অক্টোবর কুমিল্লা তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক জিয়া। দুই পর্বের এ বৈঠকের প্রথম পর্বটি ছিল আনুষ্ঠানিক। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকটি খুবই গোপনে হয়। সেখানে কি আলোচনা হয় তা কেউ জানে না। এ বৈঠকের পরদিনই কুমিল্লার ঘটনাটি ঘটে। ফলে অনেক আলামতই তারেক জিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে। কুমিল্লার ঘটনার জেরে চট্টগ্রামেও তাণ্ডব চলে। চট্টগ্রামের তাণ্ডবের ঘটনায় ভিপি নুরের দলের ১০ নেতা গ্রেফতার হয়েছেন।

ফলে ভিপি নুরের মদদ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে এতজন নেতা এ ঘৃণ্য কাজটি করেছে, বিষয়টি ধোপে টিকে না। ভিপি নুরের সঙ্গে তারেক জিয়ার সম্পর্ক পুরনো। এর আগে, তাদের হোয়াটস অ্যাপের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এতবড় ন্যক্কারজনক ঘটনায় তারেক জিয়ার সঙ্গে তার পেইড এজেন্ট নুরের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করা উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি